ভোলায় পৃথক ঘটনায় শিশুসহ ৩ জনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দুটি ঘটনায় পরিবারের অভিযোগ না থাকায় লাশ বিনা ময়নাতদন্তে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অপর একটি ঘটনায় লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।বুধবার (২৭ আগস্ট) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটে।এর মধ্যে, বুধবার সকালে তানিয়া আক্তার (১৪) নামের নবম শ্রেণি পড়ুয়া এক স্কুল শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি ভোলার মনপুরা উপজেলার দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউসুফ মিয়ার মেয়ে।পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন ধরে তানিয়া শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। অর্থকষ্টের কারণে চিকিৎসা করাতে না পেরে মানসিক কষ্টে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।এছাড়াও, একই সময় ভোলা সদর উপজেলায় মারিয়া (১৫) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়। তিনি উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের সাহামাদার গ্রামের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মনির হোসেন মীরের মেয়ে এবং একই এলাকার রাকিব হোসেনের স্ত্রী। প্রেমের সম্পর্ক থেকে গেল ৮ মাস আগে রাকিবের সঙ্গে বিয়ে হয় মারিয়ার।মারিয়ার বাবা-মায়ের অভিযোগ, তার স্বামী রাকিব তাকে গতকাল রাতে মারধর করেন। এরপর মারিয়া অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে আজ দুপুরে তার মৃত্যু হয়।মারিয়ার শশুর বাড়ির লোকজন বলছেন, অসুস্থ জনিত কারণে গতকাল রাতে তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ডাক্তার তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে, বুধবার সকালে বরিশাল নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।এদিকে, মারিয়ার মৃত্যুর পর লাশ তার বাবার বাড়িতে রেখে শশুর বাড়ির লোকজন পালিয়ে যায়। স্বামী রাকিবের অতিরিক্ত মারধরের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে জানিয়ে উপযুক্ত বিচার দাবি করেন মারিয়ার বাবা-মা।একই সময় জেলার তজুমুদ্দিন উপজেলায় পুকুরে পানিতে ডুবে আলভী (৫) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আলভী তজুমুদ্দিন উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের শশীগঞ্জ গ্রামের আঃ মালেক মিয়ার ছেলে।জানা গেছে, বুধবার দুপুরে আলভির বাবা-মা তাকে তার দাদীর কাছে রেখে একটি এনজিও থেকে টাকা তুলতে যান। এ সময় আলভী খেলা করার ছলে পুকুরে পানিতে ডুবে যায়। পরে তার বাবা বাড়ি ফিরে ছেলেকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি করলে পুকুরে পানিতে তার লাশ ভেসে থাকতে দেখেন।মনপুরায় তরুণীর আত্মহত্যার বিষয়ে মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসান কবির বলেন, মেয়েটির পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ বিনা ময়নাতদন্তে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু শাহাদাৎ হাচনাইন পারভেজ জানান, মেয়েটির পরিবারের অভিযোগ রয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।এছাড়াও তজুমুদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহব্বত খান শিশু মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পরিবারের অভিযোগ না থাকায় লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।এআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
