টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার ফলদা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-১ মো. আবু সাইদ স্বপনের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন ইউপি সদস্যরা। সরকারি বরাদ্দ, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, ভিজিডি-ভিজিএফ কার্ডসহ নানা খাতে অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের তথ্য উল্লেখ করে তাঁকে অপসারণের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন তারা।বুধবার (২৭ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদের সাতজন সদস্যের স্বাক্ষরিত অভিযোগপত্র উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে জেলা প্রশাসক বরাবর জমা দেওয়া হয়।অভিযোগকারী ইউপি সদস্যরা হলেন— ৩নং ওয়ার্ডের মো. আকতার হোসেন, ৫নং ওয়ার্ডের মো. নজরুল ইসলাম, ৮নং ওয়ার্ডের মজনু তরফদার, ৯নং ওয়ার্ডের মো. খায়রুল ইসলাম, সংরক্ষিত ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ডের মনিজা খাতুন, ৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডের মর্জিনা বেগম এবং ৭, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য নার্গিস আক্তার।অভিযোগপত্রে বলা হয়, নিয়মিত মিটিং বা রেজুলেশন ছাড়াই প্যানেল চেয়ারম্যান আবু সাইদ স্বপন সরকারি বরাদ্দ, উন্নয়ন ফান্ড, ইউনিয়ন পরিষদের ট্যাক্স ও তৃতীয় ধাপের প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। ভিজিডি কার্ডের মধ্যে ২৮৬টির মধ্যে ১০ জন ইউপি সদস্যদের ৬০টি কার্ড দেওয়া হলেও বাকি কার্ডগুলো নিজের প্রভাবশালী লোকদের মধ্যে বিতরণ করেন। ভিজিএফ কার্ড বিতরণেও অনিয়মের প্রমাণ রয়েছে।এছাড়া টিআর-কাবিখা প্রকল্পে নিজের গ্রাম আগতেরিল্যায় কাগজে-কলমে কাজ দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করেন তিনি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে বরাদ্দকৃত প্রায় কোটি টাকার কোনো দৃশ্যমান কাজও হয়নি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বরাদ্দকৃত প্রণোদনার বড় অংশ নাম-বেনামে বিতরণ দেখিয়ে শ্লীপের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।জনস্বার্থে সরকারি অর্থ ও উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে তাঁকে অপসারণের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছেন ইউপি সদস্যরা।অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে ৮নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মজনু তরফদার সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের পর চেয়ারম্যান পলাতক থাকায় আবু সাইদ স্বপন প্যানেল চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন। তারপর থেকেই তিনি নানা অনিয়ম-দুর্নীতি করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে অদৃশ্য শক্তির ভয়-ভীতি দেখানো হয়। আগেও আমরা ইউপি সদস্যগণ অভিযোগ করার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু অদৃশ্য শক্তির কারণে পিছিয়ে আসতে হয়। এখনো মামলা-হামলার হুমকি দিচ্ছেন।’সূত্র জানায়, সম্প্রতি প্যানেল চেয়ারম্যান আবু সাইদ স্বপনের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করায় ‘পুলিশকে ম্যানেজ’ করে ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. খায়রুল ইসলামকে নাশকতা মামলার অজ্ঞাত আসামি দেখিয়ে গ্রেপ্তার করান তিনি। এ ঘটনার পর থেকেই অন্য ইউপি সদস্যরাও আতঙ্কে রয়েছেন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আগতেরিল্যা গ্রামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘আবু সাইদ স্বপন নিজেও আওয়ামী লীগের কট্টর সমর্থক। দীর্ঘদিন ঠিকাদারি করলেও ২০২১ সালের ডিসেম্বরে প্রথমবার ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর চেয়ারম্যান পালিয়ে গেলে তিনি প্যানেল চেয়ারম্যান হন। শুনেছি সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে ইউপি সদস্যরা নানা অভিযোগ দিয়েছেন।’এ বিষয় অভিযুক্ত প্যানেল চেয়ারম্যান আবু সাইদ স্বপনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে অভিযোগ সম্পর্কে অজ্ঞতার কথা বলেন। পরে আবার কল দিলে অভিযোগ সম্পর্কে অবগত হয়েছেন বলে জানান। তবে অনিয়মের বিষয়ে তিনি কিছু না বলে ব্যস্ততার অজুহাতে প্রশ্ন এড়িয়ে যান এবং পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন।এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু আবদুল্লাহ খান সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, অভিযোগপত্রটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হবে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তবে এ বিষয়ে জানতে জেলা প্রশাসক শরীফা হকের মোবাইল ফোনে কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
