প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণপত্র দেখাতে হবে না দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়কে। ওই শিক্ষাবর্ষের কোনও রেকর্ডই জনসমক্ষে আনতে হবে না তাদের। প্রধানমন্ত্রীর ডিগ্রি নিয়ে বিতর্কে সোমবার (২৫ আগস্ট) এমনই রায় দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট।একইভাবে সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেত্রী স্মৃতি ইরানির শিক্ষাগত যোগ্যতা ঘিরে ওঠা প্রশ্নটিও রহস্যাবৃত রইল। দিল্লি হাইকোর্টের যে বিচারপতি মোদি মামলার রায় শোনান, সেই বিচারপতি সচিন দত্ত গতকাল জানান, ইরানির দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার ফল প্রকাশ করাও বাধ্যতামূলক নয়।বিচারপতির যুক্তি, কোনো ব্যক্তির শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি ব্যক্তিগত তথ্যের আওতায় পড়ে। তা সর্বজনীন করা উচিত নয়। এই জাতীয় বিষয় তথ্য জানার অধিকার আইনের আওতাভুক্ত নয়। এসব তথ্য ব্যক্তিগত।নরেন্দ্র মোদির শিক্ষাগত যোগ্যতা ঘিরে নানা প্রশ্ন ১১ বছর ধরে মাঝেমাঝেই উঠে এসেছে। দেশের প্রধানমন্ত্রীর ডিগ্রি জানতে মামলাও কম হয়নি। কিন্তু আজও সেই জিজ্ঞাসা বা রহস্যের কিনারা হলো না। এখনো জানা গেল না, দাবি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী মোদি সত্যিই কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন কি না।সংশয় ও সন্দেহের কারণ মোদি নিজেই। গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর বিভিন্ন টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, কৈশোরে গৃহত্যাগী হওয়ায় স্কুলের গণ্ডি পেরোতে পারেননি। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর হঠাৎই জানাজানি হয়, তিনি গুজরাট ও দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যথাক্রমে স্নাতকোত্তর ও স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে সেই দুই ডিগ্রির প্রশংসাপত্রের অনুলিপিও প্রকাশ করা হয়। কিন্তু সেই প্রশংসাপত্র ঘিরে জন্ম নেয় একাধিক প্রশ্ন, যার গ্রহণযোগ্য জবাব আজও কেউ দিতে পারেনি।নির্বাচনী হলফনামায় মোদী উল্লেখ করেছিলেন, তিনি ১৯৭৮ সালে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘বহিরাগত ছাত্র’ হিসেবে ‘এন্টায়ার পলিটিক্যাল সায়েন্সে’ স্নাতক পাস করেছেন। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এমন কোনো বিষয় কখনোই ছিল না।আবার মোদী যে সময়ের কথা উল্লেখ করেছেন, সেসময় হাতে লেখা প্রশংসাপত্র দেওয়া হলেও তার প্রদর্শিত সনদটি ছিল ছাপানো, যেখানে ব্যবহার করা হয়েছিল ১৯৯২ সালে তৈরি ফন্ট। একইভাবে ১৯৮৩ সালে গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম শ্রেণিতে এমএ পাস করেছেন বলে দাবি করেন মোদী, যা নিয়েও সংশয় রয়েছে।অন্যদিকে, স্মৃতি ইরানির স্কুল পরীক্ষার ফল নিয়েও একসময় বিতর্ক তৈরি হয়। আরটিআই আইনের আওতায় আবেদন করে অনেকেই তার ফল প্রকাশের দাবি জানিয়েছিলেন। কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ও গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে মোদীর ডিগ্রি ও সিবিএসইকে ইরানির ফল প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা মানতে অস্বীকার করে, ফলে একাধিক মামলা হয়।এর আগে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালও মোদীর ডিগ্রির সনদ প্রকাশের দাবি তুলেছিলেন। কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশন গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রকাশের নির্দেশ দিলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তা মানতে অস্বীকার করে। পরে কেজরিওয়াল গুজরাট হাইকোর্টে মামলা করেন। কিন্তু আদালত বিশ্ববিদ্যালয়ের যুক্তি মেনে নেন ও কেজরিওয়ালকে মামলার জন্য ২৫ হাজার রুপি জরিমানা করে।সবশেষে, এক দশকের বেশি সময় ধরে আলোচিত মোদী ও স্মৃতি ইরানির শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রশ্ন আজও অমীমাংসিত রয়ে গেল। আদালতের সর্বশেষ রায়ে বিষয়টি আরও বেশি রহস্যাবৃত হয়ে উঠলো।এসকে/আরআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
