সম্প্রতি প্রকাশিত পাকিস্তানের প্রথম অর্থনৈতিক শুমারি দেশের শিক্ষাগত ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের চিত্রকে সামনে এনেছে। রিপোর্টে দেখা গেছে, পাকিস্তানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো স্কুল ও কলেজ মিলিয়ে মোট ২ লাখ ৪২ হাজার ৬১৬টি, যেখানে কলেজের সংখ্যা মাত্র ১১ হাজার ৫৬৮টি এবং বিশ্ববিদ্যালয় ২১৪টি।অন্যদিকে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা অনেক বেশি। দেশজুড়ে ৬ লাখ ৪ হাজার মসজিদ এবং ৩৬ হাজার ৩৩১টি মাদ্রাসা রয়েছে। অর্থাৎ পাকিস্তানে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশিসংবাদ সংস্থা পিটিআই জানায়, পাকিস্তানে ৬ লক্ষের বেশি মসজিদ এবং ৩৬ হাজার ধর্মীয় মাদ্রাসা রয়েছে, এদিকে সেখানে কারখানার সংখ্যা ২৩ হাজার। বর্তমানে ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেলআউট প্যাকেজের দ্বিতীয় পর্যালোচনার জন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সঙ্গে আলোচনা চলছে পাকিস্তানের, দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন জানিয়েছে এমনটাই।পিটিআই-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, এই অর্থনৈতিক শুমারির উদ্দেশ্য হল অর্থনীতির কাঠামো এবং বৈশিষ্ট্যগুলির একটি সম্পূর্ণ এবং বিশদ ছবি তুলে ধরা। প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে, ২০২৩ সালের হিসেব অনুযায়ী, পাকিস্তানের মোট ৪ কোটি স্থায়ী ইউনিটের মধ্যে প্রায় ৭২ লক্ষ কর্মসংস্থানের কাঠামো ছিল। যেখানে ২৫.৪ লক্ষ লোক কাজ করছিল। প্রতিবেদন অনুসারে, মোট ২৫.৪ লক্ষ কর্মীর মধ্যে সবচেয়ে বড় কর্মী পরিষেবা খাতে নিযুক্ত, যার ৪৫ শতাংশ বা ১ কোটি ১৩ লক্ষ কর্মী। এর পরেই রয়েছে সামাজিক খাত, যেখানে ৩০ শতাংশ বা ৭৬ লক্ষ কর্মী কাজ করে, যেখানে উৎপাদন খাতে মোট কর্মীর মাত্র ২২ শতাংশ কর্মী নিযুক্ত ছিল। রিপোর্টে এও বলা হয়, জিও ট্যাগ করা ৭২ লক্ষ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৭ লক্ষ খুচরা দোকান, ১ লক্ষ ৮৮ হাজার পাইকারি দোকান, ২ লক্ষ ৫৬ হাজার হোটেল এবং ১ লক্ষ ১৯ হাজার হাসপাতাল। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২ লক্ষ ৪২ হাজারের-এরও বেশি স্কুল, ১১ হাজার ৫৬৮টি কলেজ, ২১৪টি বিশ্ববিদ্যালয়, ৬ লক্ষ ৪ হাজার মসজিদ এবং ৩৬ হাজার ৩৩১টি মাদ্রাসা রয়েছে। মোট ২ লক্ষ ৪২ হাজার ৬১৬টি স্কুলের মধ্যে বেশিরভাগই সরকার পরিচালিত এবং এর মধ্যে ১১ হাজার ৫৬৮টি কলেজ রয়েছে, যার মধ্যে বেসরকারি খাতের অংশ কিছুটা বেশি। দেশে ২৯ হাজার ৮৩৬টি সরকারি অফিস, ১০ হাজার ৪৫২টি আধা-সরকারি অফিস এবং ১৯ হাজার ৬৪৫টি ব্যাংক রয়েছে। ১ লক্ষ ১৯ হাজার ৭৮৯টি হাসপাতাল রয়েছে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে পঞ্জাব এবং সিন্ধু, বিশেষ করে করাচি অঞ্চলে অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান এবং কর্মী উভয়েরই ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি, তারপরে খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বেলুচিস্তান রয়েছে। প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে যে পাকিস্তানের বেশিরভাগ ব্যবসা ক্ষুদ্র পরিসরে, যেখানে মাত্র জনা কয়েক লোক নিয়োগ করা হয়ে থাকে। এসকে/আরআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
