প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চার বিষয়ে পাঠদানের গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। বিষয়গুলো হলো বাংলা, ইংরেজি, বিজ্ঞান ও গণিত। এই বিষয়গুলো শিক্ষার্থীরা ভালোভাবে আত্মস্থ করতে পারলে তাদের আর বেক পেতে হবে না। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঝড়ে পড়ছে। এ বিষয়ে সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে। এ মাস থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি শুরু হবে বলেও জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার। এছাড়া হাওরাঞ্চলে যেসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের অসুবিধা রয়েছে, সেসব বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে নৌকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।সোমবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে নেত্রকোনা সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। পরে বরেণ্য লেখক, বুদ্ধিজীবী, প্রাবন্ধিক, স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত মুক্তচিন্তক প্রগতিশীল ধারার অধ্যাপক যতীন সরকারের শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। উল্লেখ্য, গত ১৩ আগস্ট বুধবার দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বরেণ্য শিক্ষাবিদ অধ্যাপক যতীন সরকার।এর আগে তিনি জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কেন্দুয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, অসাধারণ উপজেলার মদনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বাইরাউড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন।ডা. বিধান রঞ্জন রায় বলেন, দুটি প্রকল্পের মাধ্যমে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি হচ্ছে। বড় কর্মসূচিতে ১৫০টি উপজেলার সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্মসূচির আওতায় থাকবে। আরেকটি প্রকল্প বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলার উপজেলাগুলোয় বাস্তবায়ন করা হবে। স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় শিশুদের পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার পরিবেশন করা হবে। এ কর্মসূচি চালুর মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষায় ঝরে পড়া রোধ, বিদ্যালয়ের শিশুদের পুষ্টিঘাটতি পূরণ ও নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ইতিবাচক হবে, আশা করি।তিনি আরও বলেন, আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হলো তথ্যপ্রযুক্তি। উন্নত বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে হলে তথ্যপ্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নের বিকল্প নেই। কারণ শিক্ষার ধারণা ও পদ্ধতি প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া জরুরি।সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা নিয়ে তিনি বলেন, শুধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। প্রাথমিকে নিম্নবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া করে। আমরা চাই এসব শিক্ষার্থীরা যেন মানসম্মত শিক্ষা পায়, তাই প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষাকে সবচেয়ে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। গত সরকারের আমলে বিদ্যালয়গুলোতে অবকাঠামোর উন্নয়ন হলেও শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক বনানী বিশ্বাস, পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদসহ জেলার প্রশাসনিক পর্যায়ের সকল কর্মকর্তা বৃন্দ।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
