রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) প্রশাসনের আশ্বাসে পোষ্য কোটা পুনর্বহালের দাবিতে চলমান তিন দিনের অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচি স্থগিত করেছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি স্থগিত থাকবে।রোববার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকের সামনে অফিসার সমিতির সভাপতি মোক্তার হোসেন এ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ‘প্রশাসন আমাদের কিছুটা সময় চেয়েছে। সবকিছু বিবেচনা করে এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা আদায়ের স্বার্থে আমরা আপাতত কর্মসূচি স্থগিত করছি। তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দাবি মানা না হলে লাগাতার কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। পানি, বিদ্যুৎ ও পরীক্ষা কার্যক্রমও তখন বন্ধ থাকবে।’তিনি আহ্বান জানান, দুপুরের খাবার বিরতির পর থেকে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা যেন নিজ নিজ একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে ফিরে যান।প্রসঙ্গত, গত ১৩ আগস্ট থেকে ফের আলোচনায় আসে পোষ্য কোটা ইস্যু। বৈষম্য দূরীকরণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা বাস্তবায়নের দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একটি অংশ টানা কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন। এর ধারাবাহিকতায় আজ রোববার (২৪ আগস্ট) থেকে মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) পর্যন্ত পূর্ণদিবস কর্মবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।এ আন্দোলনে বিএনপিপন্থী ও জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের সক্রিয় নেতৃত্বে দেখা গেলেও আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরাও মৌন সমর্থন দিয়েছেন। আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি এগ্রোনমি অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলিম, জামায়াতপন্থী ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন, জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও প্রাণরসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আমীরুল ইসলাম, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামরুল আহসান, অফিসার সমিতির সভাপতি মোক্তার হোসেন এবং কোষাধ্যক্ষ মাসুদ রানা।শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের আশ্বাসে আন্দোলন আপাতত স্থগিত হলেও দাবি পূরণ না হলে আবারও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
