যশোরের বর্ষীয়ান সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রুকুনউদ্দৌলাহ আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর।শুক্রবার (২২ আগস্ট) রাত সাড়ে ৭টার দিকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।স্বজনরা জানিয়েছেন, সাংবাদিক রুকুনউদ্দৌলাহ দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থতায় ভুগছিলেন। গত ১৯ আগস্ট রাজধানীর ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে তার হৃদযন্ত্রে তিনটি রিং স্থাপন করা হয়। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে তিনি বৃহস্পতিবার যশোরে ফিরে আসেন। শুক্রবার বিকেলে বুকে ব্যথা অনুভূত হয়। পরে তাকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর খবর শুনে সহকর্মীরা হাসপাতালে ছুটে যান। রাত সাড়ে ৮টার দিকে সাংবাদিক রুকুনউদ্দৌলাহর মরদেহ নেয়া হয় শহরের খালধর রোডের নিজস্ব বাসভবনে।জেনারেল হাসপাতালের কার্ডিয়াক বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৌহিদুল ইসলাম জানান, সাংবাদিক রুকুনউদ্দৌলাহ কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত হন। তাকে সব ধরণের চিকিৎসাসেবা প্রদান করেও প্রাণে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।রুকুনউদ্দৌলাহ পাক্ষিক যশোরের কাগজের প্রকাশক ও সম্পাদক এবং দৈনিক সংবাদের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে যশোরে কর্মরত ছিলেন।সাংবাদিকতা ও মুক্তিযুদ্ধ দুই ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন অনন্য এক মানুষ। মুক্তচিন্তার সাহসী কণ্ঠস্বর আর কলমের মাধ্যমে সমাজকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। যশোরের সাংবাদিক সমাজে তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। রুকুন ভাই শুধু একজন সাংবাদিক নন, তিনি মফস্বলের সাংবাদিকতার বাতিঘর। বহু সাংবাদিকের অনুপ্রেরণা, পথপ্রদর্শক, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলমধারী এক সাহসী কণ্ঠ।সাংবাদিক রুকুনউদ্দৌলাহর ভাইপো দৈনিক কল্যাণ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এহসান উদ্দৌলাহ মিঠুন জানান, শনিবার দুপুর ১২টায় শেষ শ্রদ্ধাঞ্জলির জন্য তার চাচার (রুকুনউদ্দৌলাহ) মরদেহ নেয়া হবে প্রেসক্লাব যশোরে। এরপর যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে গার্ড অব অনার প্রদানের পর জানাজা শেষে কারবালা কবরস্থানে দাফন করা হবে।তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ গভীর শোক ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।এআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
