পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় জামায়াত কর্মীকে গ্রেপ্তার করাকে পুলিশি হয়রানি বলে অভিযোগ তুলেছে স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দ। তাদের দাবি, এ মামলায় জামায়াতের কর্মীদের নাম অযৌক্তিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করে পুলিশ নিরপেক্ষতার বাইরে গিয়ে মামলা বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি করেছে।বুধবার (২০ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের গাজকাটী বাজার এলাকা থেকে জামায়াত কর্মী মোকছেদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের বটতলী নতুনপাড়া এলাকার অফিজদ্দীনের ছেলে। গ্রেপ্তারের পর বিষয়টি জানাজানি হলে সাধারণ স্থানীয়দের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।জানা যায়, সম্প্রতি আওয়ামী লীগের এক ভার্চুয়াল মিটিংয়ে উপজেলা কৃষকলীগ সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম এমু বিএনপি-জামায়াত নেতাদের বাড়ি ও গ্রামীণ ব্যাংকের শাখায় অগ্নি সংযোগের পরিকল্পনার কথা জানালে তা ফাঁস হয়। এর প্রেক্ষিতে গত ৫ জুন পঞ্চগড় জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জুয়েল রানা দেবীগঞ্জ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ ৭২ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয় আরও ৩০০ থেকে ৫০০ জনকে। এ মামলার ৪০ নম্বর আসামি করা হয় জামায়াত কর্মী মোকছেদুল ইসলামকে।এ ঘটনায় শুরু থেকেই জামায়াত নেতারা অভিযোগ করে আসছিলেন, তাদের কর্মীদের রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্য মামলায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দেবীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে মামলার পরপরই থানা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করা হলে ওসি আশ্বাস দিয়েছিলেন, কোনো কর্মীকে হয়রানি করা হবে না। কিন্তু এরই মধ্যে মোকছেদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।মোকছেদুল ইসলামের স্ত্রী শিউলি বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী সকালে কাজে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। পরে শুনি পুলিশ গাজকাটী বাজার থেকে তাকে ধরে নিয়ে গেছে। জমি নিয়ে বিরোধ থাকায় তাকে অন্যায়ভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে। আমার স্বামী আওয়ামী লীগ করেন না, তিনি জামায়াতে ইসলামী করেন।’বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন জেলা শাখার সভাপতি ও উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীর আবুল বাশার বসুনিয়া বলেন, ‘গত ১৬ বছর পুলিশ বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেছে। এখনো অন্য থানায় তাই হচ্ছে। অথচ দেবীগঞ্জ থানার ওসি রাজনৈতিক ব্যক্তিকে বাদী বানিয়ে একই আইনে মামলা নিচ্ছে। মামলার বাদীর বাসাও দেবীগঞ্জে নয়। এই মামলায় শুধু জামায়াতের কর্মীদের হয়রানি নয় বরং সাধারণ মানুষকেও হয়রানি করা হচ্ছে। রাজনৈতিক দমন ও রমরমা বাণিজ্য করতেই এই মামলা।’এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. বেলাল হোসেন বলেন, ‘মামলার শুরুতে আমরা পুলিশকে জানিয়েছিলাম আমাদের দুইজন কর্মী ও কয়েকজন নির্দলীয় ব্যক্তিকে অন্যায়ভাবে আসামি করা হয়েছে। তখন ওসি বলেছিলেন, হয়রানি করা হবে না। অথচ এখন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে করা মামলায় জামায়াত কর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছে।’গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোয়েল রানা বলেন, ‘মোকছেদুল সন্ত্রাসবিরোধী আইনের এজাহারনামীয় আসামি। এজাহারভুক্ত আসামি হওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’ থানায় মামলা দায়েরের সময় পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত করে যাচাই-বাছাই শেষে মামলা গ্রহণ করে। তাহলে এই মামলায় কেন জামায়াত কর্মীদের নাম আসামির তালিকায় রাখা হলো—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।পিএম
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
