সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ঐতিহাসিক মখদুমিয়া জামে মসজিদের প্রায় ২৬ বিঘা জমি ও আনুমানিক ২৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে পূর্বের মুতওয়াল্লী মাসুম বিল্লাহ ও হিসাব রক্ষকের বিরুদ্ধে।জানা গেছে, প্রায় ৭৫০ বছর পূর্বে ইসলাম ধর্ম প্রচারের জন্য সুদূর ইয়ামেন থেকে ১২ জন প্রসিদ্ধ দরবেশ এবং কিছু সংখ্যক সহচর নিয়ে শাহজাদপুরে আসেন হযরত মখদুম শাহ দৌলাহ ইয়ামেনী (রাঃ)। পরবর্তীতে তিনি দরগাহপাড়ায় মসজিদ নির্মাণ করেন।মসজিদটি শতাব্দির পর শতাব্দি ধরে অত্র অঞ্চলের মুসলমানদের কাছে ইসলামী আধ্যাত্মিকতার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। শুধু মুসলমানরাই নয়, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষেরাও এই মসজিদকে পবিত্রতার অংশ হিসেবে বিবেচনা করে আসছে।ব্রিটিশ ও পরবর্তীতে পাকিস্তান আমলে মসজিদের প্রায় শত বিঘা নিজস্ব ভূমি ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে নথিভুক্ত ছিল। কালের পরিক্রমায় ও মসজিদ পরিচালনায় এই সম্পত্তিতে মাদ্রাসা, এতিমখানা, পাঠাগার নির্মাণ ও কিছু জমি ভূমিহীনদের কাছে লিজ প্রদান করা হয়।সোমবার (১৮ আগস্ট) সকল ২৬ বিঘা জমি ও ২৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) একটি তদন্ত কমিটি মসজিদ সংলগ্ন পাঠাগারে উপস্থিত হয়ে ২২ জন লিজ গ্রহিতা এবং অভিযোগকারীদের বক্তব্য গ্রহণ করেন।মখদুমিয়া জামে মসজিদের মুতওয়াল্লী আব্দুল হাবিব তৌহিদ অভিযোগ করে বলেন, সাবেক মুতওয়াল্লী মাসুম বিল্লাহ যোগদান করার পর থেকে হিসাব রক্ষক শামীম হোসেনের সহযোগিতায় কোন নিয়ম নীতির কোয়াক্কা না করে এবং ওয়াকফ বোর্ড নীতিমালা বহির্ভূতভাবে প্রায় ২৫ বিঘা জমি অসৎ উপায় অবলম্বন করে লিজ প্রদান করেন। এমনকি মসজিদ পরিচালনা কমিটির মতামত না নিয়ে ব্যক্তিগত লাভের আশায় বেশ কয়েকজনের কাছে শত বছরের লিজ প্রদান করেন।তিনি আরও বলেন, অনেক লিজ গ্রহীতা ১ বছরের জন্য নিয়ে ৫ বছর অতিবাহিত হলেও তারা লিজের টাকা প্রদান করেনি। আবার অন্যত্র প্লট আকারে ভাড়া দেয়ার একাধিক ঘটনাও ঘটেছে, এছাড়াও উভয়ের যোগসাজসে মসজিদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নামে প্রায় ২৫ লাখ টাকা আত্মসাত করেছেন।অভিযুক্ত মুতওয়াল্লী মাসুম বিল্লাহ দীর্ঘদিন যাবৎ পলাতক থাকায় এই বিষয়ে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।এই বিষয়ে তদন্ত দলের নেতৃত্বে থাকা উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার লোকমান হোসেন বলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহোদয়ের পক্ষ থেকে আমরা উভয় পক্ষের বক্তব্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করেছি। পরবর্তী পদক্ষেপ তিনিই নির্ধারণ করবেন।এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
