গাজীপুরের কাশিমপুরে খাদ্য অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত ওএমএস এর সরকার নির্ধারিত মূল্যে চাল ও আটা বিক্রয়ের ডিলারের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।অভিযুক্ত ডিলার দীর্ঘদিন ধরে মজুদকৃত চাল ও আটা অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করছেন, এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর।জানা গেছে, সরকারি হিসাব অনুযায়ী দেশে এ মুহূর্তে চালের যথেষ্ট মজুদ রয়েছে। তবু ভরা মৌসুমেও কমছে না চালের দাম। উল্টো গাজীপুরসহ কাশিমপুরের বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে দাম বেড়েই চলেছে।গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি (ওএমএস) কার্যক্রম প্রায় ১৩ শতাংশ বাড়িয়ে নির্ধারণ করে খাদ্য মন্ত্রণালয়। সরকারের নেয়া জনবান্ধন এই কার্যক্রমের আলোকে গাজীপুর জেলা ও উপজেলা, মহানগরীর ওয়ার্ড পর্যায়ে ওএমএস ডিলারদের মাধ্যমে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মূল্যে জন প্রতি সর্বোচ্চ ৫ কেজি ৩০ টাকা করে চাল ও ২৪ টাকা করে আটা বিক্রয় কার্যক্রম চালু করেছে।কিন্তু কোন কোন ক্ষেত্রে ওএমএস ডিলারদের বিরুদ্ধে জনসাধারণের জন্য বরাদ্দকৃত ন্যায্য মূল্যের চাল ও আটা সরবরাহ না করে, নিয়ম বহির্ভূতভাবে বাইরে বস্তায় বস্তায় চাল ও আটা বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কাশিমপুরের ভবানীপুর সংলগ্ন এলাকার ডিলার আবু সায়হাম এর বিরুদ্ধে।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মহানগরীর কাশিমপুরের ২নং ওয়ার্ডের ওএমএস ডিলার আবু সায়হাম, তার নামে বরাদ্দ পাওয়া প্রতিদিন ১ টন চালের বেশির ভাগই সরবরাহ করছে না সেবা গ্রহীতাদের।ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা রহিমা বেগম ও জাকির হোসেনসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, সকাল ১১ টার মধ্যেই চাল ও আটা বিক্রি বন্ধ করে দেন এই ডিলার। দোকানে লোকজন কমে গেলে বেলা ১ টার পর অটোরিক্সা বা ভ্যান গাড়িতে করে সেই চালের বস্তা পাল্টিয়ে ২-৩ বস্তা করে পাচার করেন দোকানিদের কাছে।তার এই কাজে সহযোগিতার সাথে জড়িত ওএমএস এর চাল ও আটা বিক্রয়ের দায়িত্বে থাকা আরিফ আহাম্মেদ ওরফে মিঠুন ও মুনসুর এর সাহায্যেই ডিলার আবু সায়হাম এতদিন ধরে এসব কাজ পরিচালনা করে আসছেন।তিনি নিয়ম-নীতির কোন তোয়াক্কা না করে অবৈধ পন্থায় চাল বিক্রয় করার কারণে ওএমএস এর চাল কিনতে আসা অনেকেই ৫ কেজি করে চাল না পেয়েই খালি হাতে ফেরত যাচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ।এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ডিলার (স্বত্বাধিকারী) আবু সায়হাম অভিযোগটি অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি সপ্তাহে ওখানে দু’দিন যাই, এ ধরনের অভিযোগ আমি এখনো পাইনি। আমার যে প্রতিনিধি রয়েছে আমি তার সাথে কথা বলে বিষয়টি খতিয়ে দেখতেছি। এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে তো সমস্যা।’এ বিষয়ে গাসিক ২নং ওয়ার্ড এর সচিব জসিম উদ্দিন বলেন, ‘এলাকাবাসীর পক্ষে ঐ ডিলারের বিষয়ে অনেক অভিযোগও আছে। ডিলারের কারণে ওএমএস এর চাল পাওয়া থেকে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে।’এ বিষয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৮ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ হাসান বলেন, ‘অসহায় মানুষদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল-আটা বিক্রয়ে অনিয়মের কোন সুযোগ নেই। তারা যদি অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেওয়ারসহ অনিয়মের সাথে জড়িত হয়ে থাকে, তাহলে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে বিধি মোতাবেক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’তবে ওএমএস এর চাল ও আটা বিক্রয়ে ডিলারের বিরুদ্ধে অনিয়মের বিষয়ে জানতে গাজীপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মো. শফি আফজালুল আলম বলেন, ‘অসহায় গরীব মানুষদের জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্য অধিদপ্তরের ওএমএস এর চাল ও আটা বিক্রয়ে অতিরিক্ত অর্থ নেয়ার কোন সুযোগ নেই। আর আপনি যে অভিযোগের বিষয়টি বললেন, বিষয়টি অতি দ্রুত তদন্ত করে ডিলার দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’তবে সংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করেন, ওএমএস এর ন্যায্য মূল্যে চাল বিতরণ এর কর্মসূচি জেলা ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের মাঠ পর্যায়ে মনিটরিং আরো বাড়ানো প্রয়োজন। তাহলেই ওএমএস চাল পাচার ও কালোবাজার বিক্রয় নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে মত দেন।এআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
