হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর আগেই স্থাপিত বহু যন্ত্রপাতির ওয়ারেন্টি শেষ হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকার কারণে এসব যন্ত্রের কার্যকারিতা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে। এতে অতিরিক্ত ব্যয়ের শঙ্কা তৈরি হয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) জন্য।প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, আরও অনেক যন্ত্রাংশের ওয়ারেন্টি দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। ফলে মেরামত বা প্রতিস্থাপনের জন্য সরকারের বিপুল অর্থ খরচ হতে পারে।বেবিচকের সদস্য (অপারেশন অ্যান্ড প্ল্যানিং) এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মাহবুব খান বলেন, ‘যন্ত্রপাতি সচল রাখতে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়। কোন কোন যন্ত্রাংশের মেয়াদ শেষ হয়েছে তা যাচাই চলছে। টার্মিনাল চালু করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।’২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর একনেকে অনুমোদন পায় শাহজালাল বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প (ফেজ-১)। বর্তমানে তৃতীয় টার্মিনালের ৯৯ শতাংশের বেশি কাজ শেষ হলেও ক্যালিব্রেশন, টেস্টিং এবং টার্মিনালের পূর্ব অংশের কাজ এখনো অসম্পূর্ণ।এ ছাড়া টার্মিনাল পরিচালনার জন্য জাপানের চার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর বাকি রয়েছে। চুক্তির পর ছয় হাজার জনবল এবং নিরাপত্তার জন্য আরও চার হাজার জনবল নিয়োগ দিতে হবে। নিয়োগের পর প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়াতেও সময় লাগবে। ফলে কবে নাগাদ টার্মিনাল চালু হবে তা অনিশ্চিত।বেবিচকের নথি অনুযায়ী অন্তত ২০ ধরনের আধুনিক যন্ত্রপাতি দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:- ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং ও স্ক্রিনিং সিস্টেম- ফ্লাইট ইনফরমেশন ডিসপ্লে- ভিজ্যুয়াল ডকিং গাইডেন্স সিস্টেম- কমন ইউজ প্যাসেঞ্জার প্রসেসিং- ইন্টিগ্রেটেড বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট- নিরাপত্তা স্ক্যানার, সিসিটিভি, ফায়ার অ্যালার্ম- টেলিফোন এক্সচেঞ্জ, ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক, পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম- মাস্টার ইলেকট্রিক ক্লক, টু-ওয়ে রেডিও, অপটিক ফাইবার ক্যাবল ইত্যাদি।এর পাশাপাশি পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, নিষ্কাশন পাম্প, নিরাপত্তা অ্যাক্সেস নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত যন্ত্রপাতির মেয়াদও ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে।প্রকল্পের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘আগে যন্ত্রাংশ নষ্ট হলে বিনা খরচে বা চুক্তি অনুযায়ী মেরামত করা যেত। এখন অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।’বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উন্নত প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি অব্যবহৃত থাকায় শুধু খরচই বাড়ছে না, বরং আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে যাত্রীসেবায় বিলম্ব হবে এবং দেশের বিমান পরিবহন খাতে আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে।বর্তমানে শাহজালালের প্রথম ও দ্বিতীয় টার্মিনালে প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার যাত্রী সেবা নেন। বছরে এই সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৮০ লাখ। নতুন টার্মিনাল চালু হলে আরও অন্তত ১ কোটি ২০ লাখ যাত্রীকে সেবা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
