ভারতীয় ক্রিকেটে এ যাবৎকালের অন্যতম সেরা অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। তার অধিনায়কত্বে সম্ভাব্য সব আইসিসি ট্রফি জিতেছে ভারত। এর বাইরে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটেও তার নেতৃত্বগুণ সবাইকে মুগ্ধ করেছে। বিশেষ করে মাঠে ম্যাচ বদলে দেওয়ার মতো বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তার জুঁড়ি মেলা ভার। এজন্য ভক্তরা তাকে ‘ক্যাপ্টেন কুল’ বলেও ডেকে থাকেন। ২০১৯ সালে ক্রিকেট বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সব ধরনের ফরম্যাট থেকে অবসর গ্রহণ করেন ধোনি। তবে চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) নিয়মিত তিনি। ক্রিকেট পাড়ায় ধোনির মতো তীক্ষ্ণ ক্রিকেট-মস্তিস্ক খুব কম খেলোয়াড়েরই আছে। মাঠে ফিল্ড সাজানো, ব্যাটসম্যানের মনের খবর পড়া কিংবা উইকেটের পেছনে অবিশ্বাস্য সব কীর্তি—সব মিলিয়ে ধোনি অনন্য এক উচ্চতা। ফলে অনেকেই ধারণা করছেন ভবিষ্যতে কোচিং পেশায় তাকে দেখা যেতে পারে। সবশেষ ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতীয় দলের মেন্টর হিসেবে কাজ করেছিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। এর বাইরে কোচিংয়ের সঙ্গে তাঁর তেমন কোনো সম্পর্ক নেই।সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার ও ক্রিকেট বিশ্লেষক আকাশ চোপড়া মনে করছেন, ধোনির কোচিংয়ে আগ্রহ আছে। ফলে ভবিষ্যতে চেন্নাই সুপার কিংস কিংবা ভারতীয় দলের ডাগ আউটের দায়িত্বে দেখা যেতে পারে ‘ক্যাপ্টেন কুলকে’। সম্প্রতি নিজের ইউটিউব চ্যানেলে আকাশ বলেছেন, ‘এটা বড় একটা বিষয়। আমি মনে করি না, ধোনির (কোচিংয়ে) আগ্রহ আছে। কোচিং খুব কঠিন কাজ। খেলোয়াড় থাকার মতোই ব্যস্ততা, কখনো তার চেয়েও বেশি। পরিবারকে সময় দেওয়ার ব্যাপার আছে। আর ও তো সারা জীবনই সফর করে গেছে। এখন আর সেই জীবন চাইবে না।’চেন্নাই সুপার কিংসের সঙ্গে ধোনির সম্পর্ক অনেক পুরোনো। আইপিএলে চেন্নাইকে ৫বার শিরোপা এনে দিয়েছেন তিনি। তাই ভবিষ্যতে হয়তো আইপিএলে তাঁকে ডাগআউটে দেখা যাবে। এদিকে অনেকেই ধারণা করছেন ভারতের বর্তমান কোচ গৌতম গম্ভীরের পর ধোনিই হবেন ভারতের পরবর্তী কোচ। তবে এবিষয়ে আকাশ মনে করেন, এই সিদ্ধান্ত একান্তই ধোনির। কেননা, ভারতের পূর্ণকালীন কোচ হওয়া মানে বছরে অন্তত ১০ মাস ব্যস্ততা।তিনি বলেছেন, এ কারণেই অনেক খেলোয়াড় কোচিংয়ে আসে না। এলেও সেটা দুই মাসের আইপিএল মৌসুমের জন্য। কিন্তু ভারতের প্রধান কোচ হওয়া মানে বছরে ১০ মাস ব্যস্ত থাকা। ধোনির সেই সময় আদৌ আছে কি না, আমার সন্দেহ আছে। যদি সত্যিই থাকে, তাহলে আমি খুব অবাক হব।’আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
