মাঠা আমাদের কাছে ব্রিটিশ আমল থেকেই একটি পরিচিত নাম। এটি এমন একটি পানীয়ের নাম যা ভারতীয় উপমহাদেশে, বিশেষ করে বাংলাদেশ ও ভারতে বেশ জনপ্রিয়। আগের দিনে প্রসিদ্ধ এলাকা যেমন বাংলাদেশের পুরান ঢাকায় গোয়ালারা মাথায় করে মাঠা বিক্রি করতো। খেতে সুস্বাদু এই খাবার প্রায় সব ঋতুতে খাওয়া যায়। এই জন্য সব বয়সী মানুষ সেই সময় থেকে মাঠা খেতে পছন্দ করতো। “মাঠা” মূলত “ঘোল” বা “লাচ্ছি” এর সাথে সম্পর্কিত, তবে এটি কিছুটা ভিন্ন স্বাদ এবং প্রস্তুত প্রণালীর কারণে পরিচিত। মাঠা তৈরিতে দই বা ঘোলকে পানি দিয়ে পাতলা করা হয় এবং এতে বিভিন্ন মশলা, যেমন – ভাজা জিরা, পুদিনা, হিং, এবং লবণ যোগ করা হয়। কেউ কেউ চিনিও ব্যবহার করেন। কিছু অঞ্চলে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা এবং বিহারে, সাদা ঘোলকেও মাঠা বলা হয়। মাঠা একটি স্বাস্থ্যকর পানীয়, যা ক্যালসিয়াম, প্রোটিন, ভিটামিন বি-১২, প্রোবায়োটিকস, পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়ামের মতো পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। এটি হজমে সহায়তা করে এবং শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। স্বাস্থ্য সচেতনরা সাধারণত সকালে খালি পেটে এ পানীয় খেয়ে থাকেন। তবে এ অভ্যাস ভালো না খারাপ তা অবশ্য অনেকেরই অজানা।পুষ্টিবিদরা বলছেন, মাঠা বা ঘোলের অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। এটি সকালে দ্রুত শরীরে পানীয়, প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামের জোগান দেয়। হজম ক্ষমতাও বাড়াতে সাহায্য করে। পুষ্টিবিদরা বলেন, সকালে খালি পেটে মাঠা খাওয়া ভালো বলে মনে করা হয়। খালি পেটে মাঠা খেলে দ্রুত সুফল মেলে। ব্যায়ামের পর কোষ পুনরুদ্ধারের জন্য বা দ্রুত শোষণ হারের কারণে সকালে প্রথম পানীয় হিসেবে মাঠা খেতে বলা হয়। মাঠা পেশীতে দ্রুত প্রোটিন সরবরাহ করে। এছাড়া গরমের সময়ে শরীর দ্রুত শীতল রাখতেও দারুণ কাজ করে মাঠা। আসুন এক নজরে জেনে নিই মাঠার কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতার কথা- ১। নিয়মিত মাঠা খাওয়ার অভ্যাস হজমক্ষমতা উন্নত করে। ২। শরীরের অতিরিক্ত ওজন ও মেদ কমাতে সাহায্য করে। ৩। শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ করে শরীরকে সতেজ রাখতে পারে। ৪। মাঠা শরীরে প্রোবায়োটিক সরবরাহ করে যা অন্ত্রের বিশেষ করে লিভার ও পাকস্থলির সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে। ৫। অ্যাসিডিটি ও গ্যাসের সমস্যা কমাতে পারে। ৬। ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ হওয়ায় মাঠা দাঁতের সমস্যা দূর করে। হাড়ের গঠন মজবুত করে এবং অস্টিওপরোসিসের ঝুঁকি কমায়। ৭। মাঠায় উপস্থিত প্রোবায়োটিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক। ৮। মাঠা ত্বককে প্রাকৃতিকভাবে ময়েশ্চারাইজ করে এবং ত্বককে ভেতর থেকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। ৯। মাঠা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সাহায্য করে। ১০। শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য রক্ষা করে শরীরের পানিশূন্যতা কমাতে সাহায্য করে।রেসিপি প্রয়োজনীয় উপকরণ: ১ কাপ টক দই, ২ চামচ লেবুর রস, ২ গ্লাস পানি ও পরিমাণমতো লবণ। যেভাবে তৈরি করবেন: ১ কাপ টক দইয়ে ২ চামচ লেবুর রস, ২ গ্লাস পানি ও পরিমাণমতো লবণ দিয়ে হুইস্ক অথবা ডালঘুটনি দিয়ে ভালো করে ঘুটে নিই যতক্ষণ না পানীয়তে ফেনা তৈরি হয়। ফেনা তৈরি হলে তৈরি হলে খাওয়ার জন্য গ্লাসে ভরে নিন স্বাস্থ্যকর মাঠা। এবি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
