কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বৃহত্তর রাজাপালং ইউনিয়নের পূর্বাঞ্চলের একমাত্র মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ডেইলপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়। পর্যাপ্ত দালানকোঠার শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষক সংকটের কারণে এখানে পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া থেকেও বঞ্চিত এ বিদ্যালয়। ফলে শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণে গুরুতর সমস্যার মুখে পড়ছে।সরেজমিন গিয়ে বিদ্যালয়ে দেখা গেছে, বহু আগে নির্মিত জরাজীর্ণ টিনশেড কক্ষে গাদাগাদি করে ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা। কোথাও টিনের ছিদ্র, কোথাও দেয়ালের কাঠামো নড়বড়ে হয়ে গেছে। বৃষ্টি হলে কক্ষের ভেতর পানি ঢুকে পড়ার মতো পরিস্থিতি।বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উখিয়ার পূর্বাঞ্চলের প্রায় ৬০০-৭০০ শিক্ষার্থী এই বিদ্যালয়ের ওপর নির্ভর করে পড়াশোনা করছে। কিন্তু অধিকাংশ শ্রেণিকক্ষই পুরনো ও জরাজীর্ণ টিনশেড ঘর। ভারী বৃষ্টিতে এসব কক্ষে পানি ঢুকে পড়ে, আর বর্ষাকালে ছোট খেলার মাঠ কাদায় ভরে চলাচলও কষ্টকর হয়ে ওঠে। এতে শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হয় এবং পাঠদানেও অমনোযোগী হয়ে পড়ে।একই অবস্থা শিক্ষকদের অফিস কক্ষেরও, যেখানে নিরাপদে বসে কাজ করাও সম্ভব নয়। শুধু অবকাঠামো নয়, শিক্ষক সংকটও এখানে একটি বড় সমস্যা। বর্তমানে বিদ্যালয়ে প্রায় ১০ জন শিক্ষক থাকলেও এনটিআরসিভুক্ত আছেন মাত্র একজন, বাকিরা সবাই খণ্ডকালীন শিক্ষক।পার্শ্ববর্তী স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আধুনিক ও ডিজিটাল সুবিধা পেলেও ডেইলপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় এখনো অনেকটা পিছিয়ে আছে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধার অভাবে শিক্ষকরা যুগোপযোগী পাঠদানেও হিমশিম খাচ্ছেন।এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক রিয়াজুল হক জানান, পূর্বাঞ্চলের শত শত শিক্ষার্থীর একমাত্র ভরসাস্থল এই বিদ্যালয়। লেখাপড়ার জন্য যে পরিবেশ প্রয়োজন, সেই ব্যবস্থায় বিদ্যালয়টি অনেক পিছিয়ে। আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো না হওয়ায় এই স্কুলে পড়াতে হচ্ছে ছেলেকে। না হলে ভালো কোন পরিবেশ আছে এরকম স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিতাম ছেলেকে।অবহেলার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি আজ উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। শিক্ষা অবকাঠামোর উন্নয়ন না হলে আগামী প্রজন্মের শিক্ষাগত অগ্রগতি মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় শিক্ষাবিদরা।স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মীর শাহেদুল ইসলাম রোমান বলেছেন, ‘স্কুলের ভবনের জন্য সবাই যে যার মতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। শুনেছিলাম একবার ভবনের জন্য বাজেট আসছিল কিন্তু বিদ্যালয়ের জায়গা নিয়ে সমস্যার কারণে তা কার্যকর হয়নি।’প্রধান শিক্ষক মাহফুজ মৃধা বলেন, ‘এখানে দালান ভবনের পাশাপাশি এনটিআরসিভুক্ত শিক্ষকেরও চরম অভাব রয়েছে। দালান নির্মাণের বিষয়ে স্কুল কমিটির সঙ্গে আমি নিয়মিত যোগাযোগ ও সহযোগিতায় আছি। বর্তমানে শিক্ষক এবং দালানের শ্রেণিকক্ষ দুটোই অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।’বিদ্যালয়ের সভাপতি শফিক আজাদ বলেন, ‘স্কুলে দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও শ্রেণিকক্ষ বাড়ানোর সুযোগ পাচ্ছি না, কারণ এখানে দালানের কোনো ভবন নেই, অতিরিক্ত কক্ষও নেই। প্রযুক্তিগত দিক থেকেও আমরা অনেক পিছিয়ে। আমি দায়িত্ব নিয়েছি সবে মাত্র, তবে যতটুকু পারি নিজের সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এই সংকট নিরসন করে পূর্ণাঙ্গ পাঠদানের ব্যবস্থা করতে। এ জন্য আমি সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের সহযোগিতা কামনা করছি।’এআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
