যশোরের অভয়নগরে বালিতে পুঁতে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৪ কোটি টাকা চাঁদা আদায়ের ঘটনায় বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান জনি সহযোগীসহ গ্রেফতার হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) যৌথ বাহিনী খুলনায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। জনি নওয়াপাড়া পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও গরুহাট এলাকার কামরুজ্জামানের ছেলে। অন্যজন হলেন চলিশিয়ার কোটা গ্রামের মাহমুদ শেখের ছেলে সাবেক মেম্বর তুহিন হোসেন।অভয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল আলীম জানান, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে খুলনা শহরের রোজ গার্ডেন হোটেলে যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে আসাদুজ্জামান জনি ও তার সহযোগী তুহিনকে আটক করে। পরে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা দুপুর পর্যন্ত তার কণা ইকো পার্কসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।যশোর গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনজুরুল হক ভূঁইয়া জানান, আসাদুজ্জামান জনির বিরুদ্ধে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। ডিবি, র্যাব ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, জনির বিরুদ্ধে ঘাট গোডাউন দখল, চাঁদাবাজি, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং আলোচিত কৃষকদল নেতা তরিকুল হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। জনি তার রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে সংখ্যালঘুদের জমি নামমাত্র মূল্যে দখল করে ‘কণা ইকো পার্ক’ নির্মাণ করেছেন।উল্লেখ্য, গত ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর সকালে ১০ টায় জাফ্রিদী এন্টারপ্রাইজের মালিক শাহনেওয়াজ কবীর টিপুকে সুকৌশলে নওয়াপাড়া পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান জনির অফিসে ডেকে নিয়ে যায় সৈকত হোসেন হিরা। এসময় আসাদুজ্জামান জনি টিপুকে মারধর করে এবং অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। এরপর গত ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টার দিকে ব্যবসায়ী টিপুকে চলিশিয়া গ্রাম থেকে মোটরসাইকেলযোগে বাজারে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গেট পার হলে সৈকত হোসেন হিরা তার গতিরোধ করে একতারপুর গ্রামে কণা ইকো পার্কে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে টিপুর স্ত্রী মামলার বাদি আসমা খাতুন সেখানে পৌঁছালে আসাদুজ্জামান জনি, সম্রাট হোসেন, নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবের পদ হারানো সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান দপ্তরীসহ অন্যান্যেরা পিস্তল ঠেকিয়ে টিপুকে মারধর করতে থাকেন। পরে বালুর গর্ত আটকে রেখে আরো দুই কোটি টাকা আদায় করেন। এ ঘটনায় চলতি বছরের ৩ আগস্ট ওই ব্যবসায়ীর স্ত্রী আসমা খাতুন বাদি হয়ে ৬ জনের নামে অভয়নগর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। আসামিরা হলেন কণা ইকো পার্কের মালিক কামরুজ্জামান ও তার বড় ছেলে আসাদুজ্জামান জনি, নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান দপ্তরী, পৌর বিএনপির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক সম্রাট হোসেন, যুব নেতা সৈকত হোসেন হিরা ও মিঠু (ডিস ব্যবসায়ী)।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
