চাঁপাইনবাবগঞ্জের দুই উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে অতিবৃষ্টি আর উজানের ঢলে বেশ কিছুদিন ধরেই পানিবন্দী অবস্থায় আছে প্রায় ১১ হাজার পরিবার। এসব এলাকায় দেখা দিয়েছে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ সংকট। কিন্তু চাহিদার তুলনায় তেমন কিছুই পাচ্ছে না বন্যাকবলিত এলাকার বাসিন্দারা।জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড ব্যতীত বাকী ৮টি ওয়ার্ডের সাত’শ পরিবার এখন পানিবন্দী অবস্থায়। এখানে দেড়’শ পরিবারকে ১০ কেজি চালসহ ডাল, চিনি, তেল, লবন ও মসলা দেওয়া হয়েছে। আরও ৪’শ পরিবারকে ১৫ কেজি করে চালসহ পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হবে।এদিকে, একই উপজেলার আলাতলি ইউনিয়নের ৭০০ থেকে সাড়ে ৭০০ পরিবার এখন পানিবন্দী। যেখানে ৯ টন চাল ৬০০ পরিবারকে বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটসহ বিতরণ করা হয়েছে।জানা গেছে, শিবগঞ্জ উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের মধ্যে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাঁকা ইউনিয়ন। সেখানকার ৬ হাজার পরিবার বন্যায় পানিবন্দী হয়ে আছে। এসব বাসিন্দাদের মাঝে মাত্র এক শত ৫০ পরিবারকে ২০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় বিতরণকৃত এ ত্রাণ একেবারে নগণ্য।এছাড়া, দূর্লভপুর ইউনিয়নের চারটি ওয়ার্ডের তিন হাজার পরিবার পানিবন্দী। সেখানে মাত্র ৯২টি পরিবারকে ৩০ কেজি চাল, ৭৫টি প্যাকেটে লবন, ডাল, চিনি, মসলা জাতীয় শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। আগামীকাল আরও ৬০টি পরিবারকে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে।এদিকে, উজিরপুর ইউনিয়নের কমবেশি ৯টি ওয়ার্ড বন্যায় আক্রান্ত হয়ে পানিবন্দী হয়ে আছে এসব এলাকার বাসিন্দারা। সেখানে সাড়ে ৩০০ থেকে চারশত পরিবার পানিবন্দী হলেও মাত্র ১০০ পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে।পাঁচটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে কথা হলে তারা অভিযোগ করেন, চাহিদার তুলনায় একেবারে কম ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে। যেখানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ অনেকেই পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করছে।পাঁকা ইউনিয়নের কানছিড়া জ্যাটপাড়া এলাকার বাসিন্দা রুলিয়া বেগম বলেন, ‘আমার বাড়িতে এক সপ্তাহ থেকে পানি ঢুকে গেছে। খাবার—দাবার কিছুই নাই। এখন পর্যন্ত কেউ আমাকে খাবার দিতে আসেনি।’এ বিষয়ে, চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকতার্ আমিনুল ইসলাম জানান, ‘সদর উপজেলায় ১৫ মেট্রিক টন চাল ও এক শত ৫০ পরিবারকে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া বন্যার পানিতে ডুবে একজনের দাফন—কাফন সম্পন্ন করার জন্য ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, শিবগঞ্জ উপজেলায় ১৩ মেট্রিক টন চাল, ৮৫ পরিবারকে শুকনো খাবার, চার পরিবারকে আট বান্ডিল টিন ও নগদ ২৪ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে।’তিনি আরও জানান, ‘দূর্যোগ মোকাবেলার জন্য এরই মধ্যে সবধরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় আরও ত্রাণের প্রয়োজন হলে সেখানকার জনপ্রতিনিধিরা আমাদের কাছে লিখিত আবেদন জানালেই আমরা সেটা দেওয়ার চেষ্টা করছি।’আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
