চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নে সাঙ্গু নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে দেদারসে। প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট প্রকাশ্যে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বালু তুলছে এবং বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছে। এর ফলে নদী তীরবর্তী ফসলি জমি, বসতবাড়ি ও বেড়িবাঁধ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি দেখে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হলেও, প্রভাবশালীদের ভয়ে প্রকাশ্যে কেউ প্রতিবাদ করতে পারছে না।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সাঙ্গু নদীর তিনমুখ এলাকা এবং আশপাশের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ১০ থেকে ১২টি ড্রেজার মেশিন দিয়ে প্রতিদিন জোয়ার-ভাটার সময় মিলিয়ে অন্তত দুই থেকে তিনবার বালু তোলা করা হয়। এসব বালু পাশের বিভিন্ন ইউনিয়ন, উপজেলা ও বন্দর এলাকায় বিক্রি করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সিন্ডিকেটের নেটওয়ার্ক এতটাই শক্তিশালী যে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়েই বছরের পর বছর এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা বলছেন, এভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তীর ক্রমেই ধসে পড়ছে। এরই মধ্যে কয়েক বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বেড়িবাঁধও ঝুঁকির মুখে থাকায় আশপাশের গ্রামগুলোতে বন্যার ঝুঁকি বেড়েছে। তারা আরও জানান, এনিয়ে প্রতিবাদ করলে হয়রানি, ভয়ভীতি এবং মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। ফলে বালু ব্যবসায়ীদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।হাইলধর গ্রামের বাসিন্দা আবদুল হাকিম বলেন, ‘বালু ব্যবসায়ীরা দেদারসে ব্যবসা করলেও তাদের থামানোর কেউ নেই। প্রভাবশালী হওয়ায় তারা যে কোনো প্রতিবাদকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। আমাদের চোখের সামনে নদী ধসে যাচ্ছে, জমি হারিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু কোনো প্রতিকার নেই। প্রশাসনকে বহুবার জানিয়েছি, কিন্তু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপক ত্রিপুরা বলেন, ‘আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। সরেজমিনে তদন্ত করে উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষ অবিলম্বে এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং নদী তীরবর্তী এলাকা ও বেড়িবাঁধ রক্ষায় স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তারা বলছেন, এখনই ব্যবস্থা না নিলে আগামী বর্ষায় ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়বে পুরো এলাকা।আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
