চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলায় ফের মাথাচাড়া দিয়েছে বন্য হাতির আতঙ্ক। সাড়ে ৩ মাস চুনতি অভয়ারণ্যে অবস্থান শেষে গত ২০ জুলাই দেয়াঙ পাহাড়ে ফিরে আসে হাতির একটি পাল। এরপর থেকেই প্রায় প্রতিদিন সন্ধ্যা নামলেই খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে প্রবেশ করে। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে আতঙ্ক ও ক্ষয়ক্ষতি।আনোয়ারা থানা সূত্রে জানা যায়, হাতির আগমনের পর গত ২০ দিনে থানায় ৭টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। এসব অভিযোগে ফসলি জমি, বাড়ির সীমানাপ্রাচীর ও অন্যান্য স্থাপনা ক্ষতির কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে অনেক স্থানীয়ই এসব ঘটনার ব্যাপারে অবগত নন।স্থানীয় বাসিন্দা জে এম জাবেদুল ইসলাম বলেন, ‘থানার তথ্যে ৭টি জিডির কথা শোনা গেলেও বাস্তবে আমরা শুধু ইআরটি সদস্য আবু বক্করের আহত হওয়ার ঘটনাই জানি। অন্য অভিযোগের বিষয়ে কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই।’ একই মত প্রকাশ করেন অপর বাসিন্দা ফরহাদুল ইসলামও।কেইপিজেড সংলগ্ন এলাকার মানুষ জানায়, ২০১২ সাল থেকে প্রতি বছরই বন্য হাতির পাল আসে ও যায়। তবে ২০১৭ সালের পর থেকে দেয়াঙ পাহাড়কে তারা স্থায়ী আবাস বানিয়েছে। দিনভর লেক এলাকায় থাকলেও রাতে লোকালয়ে প্রবেশ করে তাণ্ডব চালায় তারা।আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনির হোসেন সময়ের কন্ঠস্বর-কে বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ করলে তা ডায়েরিভুক্ত করে তদন্ত শেষে বন বিভাগে ক্ষতিপূরণের সুপারিশের জন্য পাঠানো হয়।’বাঁশখালী জলদী বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ জানান, হাতি যাওয়া-আসা করছে, তবে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে। গেল জুনেই ১৩০ জনকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়। আমরা এ বিষয়ে সার্বক্ষণিক বন বিভাগের সাথে যোগাযোগ রাখছি।’তিনি আরও বলেন, ‘হাতিকে সরানো সহজ নয়, আগের মতোই বনবিভাগের ইআরটি টিম কাজ করে যাচ্ছে।’এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
