ছোটবেলা থেকেই অভাবের তাড়নায় পড়ালেখা করা হয়নি মাগুরার রাজুর। পনেরো বছর বয়সে বাবাকে হারান। টাকার প্রয়োজনে ছুটেছিলেন রাজধানী ঢাকায়। সেখানে একজন কনস্ট্রাকশন মিস্ত্রী হিসেবে কাজ শুরু করেন। শ্রমিক হিসেবে পেতেন সামান্য কিছু টাকা, যা দিয়ে ঠিকমতো সংসার চালানো ছিলো কঠিন।রাজু জানায়, অভাবের মধ্যেই বিয়ে করে পড়েন আরও বিপাকে। তবে হঠাৎ এক মেশিন তাকে ভাগ্য খুলে দিয়েছে। হাতে ভাজা মুড়ি মেশিন কিনে লাখ টাকার বনে গেছেন রাজু। এখন মাত্র দশ বছরে এই একটি মেশিনে মুড়ি ভেজে মাসে আয় করছেন লাখ লাখ টাকা। প্রতি মাসে ৩০-৩৫ হাজার টাকা আয় করছেন তিনি। তবে সিজিনের সময় অর্থাৎ রমজান মাস, পূজার আগে মাসে লাখ টাকা আয় করেন তিনি।মাত্র ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়ে একটি মুড়িভাজা মেশিন কিনে শূন্য থেকে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাচ্ছেন রাজু নামে এই যুবক। রাজুর বাড়ি মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী গ্রামে।রাজু বাড়ির পাশেই গড়ে তুলেছে এই হাতে ভাজা মুড়ি মেশিন। যেখানে চাল থেকে মুড়ি ভেজে আয় করছেন লাখ লাখ টাকা। প্রতিদিন তার মেশিনে চাল নিয়ে মুড়ি ভাজতে আসে আশেপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ।গ্রাহকরা জানিয়েছেন, হাতে মুড়ি ভাজা এই মেশিনের মাধ্যমে মাত্র কয়েক মিনিটে ভাজা যায় কেজি কেজি চাল। অল্প সময়ে মুড়ি ভাজতে সহজ হয় এই মেশিনে।দেখা যায়, গরম খোলার মধ্যে বালু দিয়ে লবণপানি মিশ্রণ করা পানি ছিটিয়ে দিয়ে খোলায় ভাজা হয় মুড়ি। আধুনিক এই পদ্ধতি সবাইকে অবাক করেছে। একটি হলারের ভিতর কাঠের তুষ দিয়ে কারেন্টে হিট দেওয়া হচ্ছে। এতে তাড়াতাড়ি গরম হচ্ছে মুড়িভাজা খোলা।রাজুর এই মিলে কাজ করছে কয়েক কর্মচারী। সিজিনের সময় বিশেষ করে রমজান মাস, পূজা অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে ভিড় হয় তার মিলে। প্রতি ঘণ্টায় ৬০ কেজি চালের মুড়ি ভাজতে পারেন বলে জানান রাজু।হাতে ভাজা মুড়ির স্বাদেরও নেই কোনো কমতি। মা মুড়ি ঘর নামে চালানো হচ্ছে এই মিলঘর। হাতের স্পর্শে মুহূর্তেই তৈরি হচ্ছে মুড়ি, যা দেখতে ছুটে আসেন লোকেরা।অল্প বিনিয়োগে শূন্য থেকে হিরো হওয়া যায় তা এই যুবক রাজুকে দেখে শেখা যায়। আগামীতে তার কাজের পরিধি আরও বাড়াতে চান রাজু। তার দেখাদেখি বেকার যুবকরা এই হাতে ভাজা মুড়ি মেশিন তৈরি করে তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে পারবে বলে মনে করেন তিনি।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
