উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও বিগত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি নিয়ন্ত্রণে ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দেওয়া হলেও এই নিয়ে তৃতীয় দফায় তিস্তার পানির বৃদ্ধির কারণে নাজেহাল হয়ে পড়েছে তিস্তা পাড়ের জনজীবন।বুধবার (১৩ আগস্ট) বিকেল ৪টা পর্যন্ত তিস্তার পানি রেকর্ড করা হয়েছে ৫২.১৯ মিটার, যা বিপদসীমার (৫২.১৫ মিটার) তুলনায় ৪ সেন্টিমিটার বেশি। এ তথ্য জানিয়েছে লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ড।পানিবৃদ্ধির ফলে তিস্তার বাম তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল তৃতীয় বারের মতো পানিতে তলিয়ে গেছে। ডুবে গেছে শতাধিক গ্রামের রাস্তা-ঘাট, বসতভিটা, ফসলি জমি, গ্রামীণ সড়ক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এছাড়া জেলার আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা, সদর ও পাটগ্রাম উপজেলার বহু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।এদিকে পানি বৃদ্ধির ফলে নতুন করে বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে পাটগ্রামের দহগ্রাম, গড্ডিমারী, দোয়ানী, ছয়আনী, সানিয়াজান, সিঙ্গামারি, সিন্দুর্না, হলদিবাড়ী ও ডাউয়াবাড়ী, কালীগঞ্জের ভোটমারী, শৈইলমারী ও নোহালী, আদিতমারীর মহিষখোচা, গোবর্ধন, কালমাটি, বাহাদুরপাড়া ও পলাশী এবং সদর উপজেলার ফলিমারী, খুনিয়াগাছ, কুলাঘাট, মোগলহাট, রাজপুর ও গোকুন্ডা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা।মহিষখোচা ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল হালিম বলেন, ‘গতকাল ও পরশু থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে। এরপর পানি বাড়তে থাকে। গরু-ছাগল নিয়ে বিপাকে পড়েছি। এখনো কোনো জনপ্রতিনিধি বা সরকারি কর্মকর্তা খোঁজ নেননি।’ডাউয়াবাড়ীর কৃষক হামিদুর রহমান বলেন, ‘নিচু এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে। ফসলি জমি ও পশুপাখি নিয়ে বিপাকে পড়েছি। প্রশাসনের দ্রুত সহায়তা প্রয়োজন।’পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, ‘পানি বৃদ্ধির কারণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতি ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।’আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
