চট্টগ্রামের সাতকানিয়া যেন ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে ইয়াবা পাচারের এক নতুন করিডরে। ব্যস্ত মহাসড়কের পাশে নির্জন গলি আর রাতের আঁধার—সব মিলে তৈরি হয়েছে মাদকচক্রের ‘নিরাপদ ট্রানজিট জোন’। গত এক সপ্তাহে তিন দফা অভিযানে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে প্রায় তিন হাজার পিস ইয়াবা, একটি বিদেশি রিভলভার, গুলি এবং টেকনাফের অন্তত তিনজন চিহ্নিত পাচারকারী।পুলিশের এসব পরিসংখ্যান দেখে নিশ্চিন্ত হওয়ার কোনো অবকাশ নেয়। কেননা, বাস্তব চিত্র আরও ভয়ংকর। যা নিয়ন্ত্রণ করছে টেকনাফ–সাতকানিয়া করিডরের শক্তিশালী চক্র।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ইয়াবা সিন্ডিকেটের কাঠামোটি পাঁচ স্তরে বিভক্ত। প্রথমে মিয়ানমার থেকে নাফ নদী পেরিয়ে ইয়াবা আসে বাংলাদেশে। সীমান্ত পারাপারের দালাল ও নৌকার মাঝি। এরপর এসকল ইয়াবার প্রথম স্টোরেজ হয় টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ‘মাল’ ভাগ হয় এবং কুরিয়ারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরা সাধারণত মোটরসাইকেল, যাত্রীবাহী বাস কিংবা পণ্যবাহী ট্রাকে মিশিয়ে চালান ছড়িয়ে দেয়। এরপর এই ইয়াবা ছড়িয়ে দেওয়া হয় ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। সাতকানিয়ার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি, পরিবহনকর্মী, এমনকি দোকানদার এর সাথে জড়িত। এরই মধ্যে এ চক্রের বেশ কয়েকজন সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। গত সপ্তাহে অভিযান চালিয়ে এই সিন্ডিকেটের তিন সদস্যকে আটক করেছে সাতকানিয়া থানা পুলিশ। এছাড়া এসময় প্রায় তিন হাজার পিস ইয়াবা, একটি বিদেশি রিভলভার, গুলি জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, আটককৃতদের দুজনেই টেকনাফের লেদা ক্যাম্পের বাসিন্দা এবং একটি বড় সিন্ডিকেটের “কুরিয়ার” হিসেবে কাজ করত। পুলিশ সূত্র জানায়, টেকনাফ থেকে চট্টগ্রাম হয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ইয়াবা পাচারের প্রধান রুটগুলোর একটি এই কক্সবাজার–চট্টগ্রাম মহাসড়ক। কেঁওচিয়া এলাকার খুনীবটতল ও আশপাশের এলাকা বহুদিন ধরেই নজরদারির তালিকায়।একজন পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এখানে রাতের অন্ধকার, মহাসড়কের নির্জনতা আর স্থানীয় কিছু সহযোগীর কারণে ইয়াবা সিন্ডিকেটের জন্য নিরাপদ করিডর তৈরি হয়েছে।’সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘টানা অভিযান চালাচ্ছি। গত এক সপ্তাহে তিনটি চালান ধরেছি। আমরা জানি, এর পেছনে বড় সিন্ডিকেট আছে—তাদেরও ধরা হবে।’আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
