কমলাকৃতির সবুজ রঙের মসৃণ এ পেয়ারা দেখলেই বুঝা যায় চন্দনাইশের পেয়ারা। তুলনামূলক বিচি কম, মিষ্টি বেশি। কাঞ্চন জাতের এ পেয়ারা স্বাদে গুণে অনন্য।পেয়ারা বাগান মালিক আবদুল মালেক জানান, ‘এ অঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাহাড় ও পাহাড়ের পাদদেশে নতুন পলি জমার কারণে এখানকার মাটি খুব উর্বর হয়। এর ফলে পেয়ারা চারা রোপণ থেকে শুরু করে গাছ বড় হওয়ার পর পেয়ারা ফলন আসা ও পরিপক্ক পেয়ারা সংগ্রহ করা পর্যন্ত গাছের গোড়ায় রাসায়নিক সার প্রয়োগ ও গাছে কোনো প্রকার কীটনাশক ছিটানো প্রয়োজন হয় না বাগান মালিক ও চাষিদের। এ কারণে এই পেয়ারাকে স্বাস্থ্যসম্মত (অর্গানিক) পেয়ারা বলে’।পেয়ারা বাগানের মালিক ইসলাম মিয়া জানান, ‘কাঞ্চনাবাদ মৌজার পাহাড়ের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে এই জাতের পেয়ারার চাষ শুরু হয় বলে এ পেয়ারাকে কাঞ্চন পেয়ারা বলা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন এলাকায় বীজের মাধ্যমে বাগান ছড়িয়ে পড়ে বলেও জানান তিনি’।বাগান মালিক মো. সোহেল উদ্দিন, ফয়সাল, জানে আলম, মো. আফসার জানান, পেয়ারা পরিপক্ক হলে নিজেরা বা শ্রমিক দিয়ে শেষ রাতে বাগান থেকে পেয়ারা সংগ্রহ করে কাপড়ের পুটলি বেঁধে কাঁধে বয়ে ভোর বেলা বাজারে নিয়ে যান। বাজার থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা পেয়ারা কিনে ট্রাকে করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিয়ে যায়।চট্টগ্রাম – কক্সবাজার মহাসড়কের পাশ ঘেঁসে দোহাজারী, হাশিমপুর, বাগিচাহাট, খাঁনহাট রেল স্টেশন, বাদামতল, রৌশন হাট ও কমল মুন্সি হাট এলাকায় রীতিমতো বসে পাইকারি পেয়ারার বাজার। এই অঞ্চলে পেয়ারার সবচেয়ে বড় বাজার বসে রৌশন হাটে।উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আজাদ হোসেন জানান, ‘উপজেলার হাশিমপুর, জঙ্গল হাশিমপুর, ছৈয়দাবাদ, লট এলাহাবাদ, দোহাজারী ও ধোপাছড়ি এলাকার পাহাড় ও পাহাড়ের পাদদেশে ৭২০ হেক্টর জায়গায় পেয়ারা বাগান আছে। চলতি মৌসুমে প্রায় ১১ হাজার মেঃ টন পেয়ারা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়’। তবে পূর্বের তুলনায় কাঞ্চন পেয়ারার উৎপাদন কমেছে বলেও তিনি জানান।কাঞ্চনাবাদ ইউপি’র ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন জানান, ‘পাহাড় কেটে মৎস্য খামার, অধিক লাভের আশায় হাইব্রিড প্রজাতির বিভিন্ন ফলের বাগান করার কারণে পেয়ারা বাগান যেমন কমে আসছে, আবার ইট ভাটার ক্ষতিকর প্রভাবে পেয়ারার ফলনও কমে আসছে’।তবে এখনও পেয়ারা চন্দনাইশের অন্যতম অর্থনৈতিক ফসল। পেয়ারা চাষে বদলেছে হাজারো কৃষকের ভাগ্য, আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে হাজারো পরিবারের।মৌসুম শেষের দিকে পেয়ারার চাহিদা ও মূল্য কমতে থাকে। তখন বাগানে পেয়ারা পেকে নষ্ট হয়। যদি পেয়ারার জুস কারখানা করা যায়, তবে স্বল্প খরচে জুস তৈরি করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব হবে। পেয়ারা সংরক্ষণের জন্য এ অঞ্চলে কোনো হিমাগার নেই। থাকলে হয়তো লাখ লাখ টাকার পেয়ারা নষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেত।ঐতিহ্য ম্লান হলেও বিলুপ্ত হয়নি। নানান সমস্যা যেমন রয়েছে, তার চেয়ে বেশি সুযোগ রয়েছে উত্তরণের। সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণে ফিরতে পারে জৌলুস, প্রশস্ত হতে পারে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথ।এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
