বাংলাদেশে গরমের এ সময়টায় মশার উপদ্রব অনেক বেড়ে যায়। জমে থাকা বৃষ্টির পানিও এ সময় মশার বংশবিস্তারে সাহায্য করে। যার ফলে সকালের পাশাপাশি সন্ধ্যা ও রাতের বেলায় মশার কামড়ে জনজীবন হয়ে ওঠে অতিষ্ঠ। সঙ্গে আশঙ্কা রয়েছে নানা রোগে আক্রান্তেরও। তাই মশাবাহিত নানা রোগের হাত থেকে রক্ষা করতে বাড়িতে লাগাতে পারেন মশা প্রতিরোধক নানা জাতের গাছ।বর্ষা এলে শুধু শীতলতা আর সবুজের জোয়ারই আসে না, স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া ও আর্দ্র পরিবেশ। জমে থাকা বৃষ্টির পানিও এ সময় মশার বংশবিস্তারে সাহায্য করে। সন্ধ্যা ও রাতের বেলায় মশার কামড়ে জনজীবন হয়ে ওঠে অতিষ্ঠ। ফলে চুলকানি ছাড়াও ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তবে বাজারে নানা ধরনের রাসায়নিক মশা প্রতিরোধক পাওয়া যায় যা শিশু ও পোষা প্রাণীর জন্য অনিরাপদ। তাই প্রাকৃতিক সমাধান হিসেবে ঘরের ভেতর ও বাইরে গাছ লাগানো হতে পারে একটি স্বাস্থ্যকর বিকল্প।তাহলে আসুন জেনে নিই বাড়িতে মশা তাড়ানোর জন্য কোন গাছগুলো থাকলে বাড়ি মশামুক্ত থাকবে।১. লেমনগ্রাস: সিট্রোনেলা তেলে সমৃদ্ধ এই গাছ ঘষে বা পাতা ভেঙে দিলে প্রায় ৪০ মিনিট পর্যন্ত মশা দূরে থাকে। দরজা ও বারান্দার কাছে রাখা টবে লাগানো হতে পারে আদর্শ।২. ল্যাভেন্ডার: লিনালুল ও লিনালাইল অ্যাসিটেট সমৃদ্ধ ল্যাভেন্ডারের গন্ধ পেলে মশা আসে না। তাই জানালা বা বসার জায়গার কাছে লাগালে সুরক্ষার পাশাপাশি পাবেন সুগন্ধও।৩. তুলসী: তুলসীর তীব্র ঘ্রান মশা তাড়াতে কার্যকর। রান্নাঘরের জানালার ধারে লাগানোর পাশাপাশি রান্নাতেও তুলসীর পাতা ব্যবহার করতে পারবেন।৪. গাঁদা ফুল: ফরাসি গাঁদায় থাকে প্রাকৃতিক কীটনাশক পাইরেথ্রাম, যা মশাসহ ক্ষতিকর পোকামাকড় তাড়ায়। তাই ঘরের প্রবেশপথে লাগালে সুরক্ষা ও সৌন্দর্য দুটোই মেলে।৫. পুদিনা ও লেবু বাম: পুদিনা পাতা শুধু মশা নয়, মাছি ও ইঁদুরও তাড়ায়। লেবু বালামের পাতায় থাকা সাইট্রাস গন্ধ ছড়িয়ে মশা দূরে রাখে।৬. রোজমেরি: রোজমেরির তেল ও ধোঁয়া দুটোই মশা তাড়াতে কার্যকর। অন্যান্য ভেষজের সাথে মিশিয়েও এটি মশা প্রতিরোধক হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।বর্ষার মৌসুমে এসব গাছ লাগানো শুধু মশা তাড়ানোর প্রাকৃতিক উপায় নয়, বরং আপনার বাড়ি ও বাগানকে করে তুলতে পারে আরও সজীব ও মনোরম।এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
