ছোট ছোট শিশু, বয়স্ক মানুষ আর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গড়ে উঠেছে একটি নিরীহ জনপদ। কিন্তু বর্তমানে প্রায় ২০টি বাড়ি ও একটি স্কুল পানিতে ডুবে রয়েছে। প্রতিদিনই পানি বাড়ছে, আর এর সঙ্গে বাড়ছে মানুষের দুর্ভোগ।পানিবন্দি এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা গরিব, তাই আমাদের দেখার কেউ নেই। আমাদের ঘরে এখন চুলা জ্বলছে না, কে খবর নেবে?’ আরেকজন ওপাশ থেকে কষ্টের সুরে বলেন, ‘তুমি কি আমার বাড়িতে আসতে পারবে? জানি পারবে না, কারণ আমার বাড়িতেও এখন পানি উঠে গেছে।’ এইভাবেই অসহায়তার এবং অবহেলার মিশ্রিত সুরে তারা সময়ের কণ্ঠস্বরের প্রতিনিধিকে জানাচ্ছিল বিপদের কাহিনী। জানা যায়, রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকা খাগড় বাড়িয়া গ্রাম এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে প্রায় ২০টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। একই সাথে খাগড় বাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ যেন ছোটখাটো পুকুর। জলাবদ্ধতার কারণে একদিকে যেমন ছোট ছোট স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রীদের খেলাধুলাসহ অন্যান্য কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে এলাকার জনজীবন হয়ে উঠেছে বিপন্ন। এছাড়াও গবাদি পশুদের খাবার এবং বাসস্থান সংকট দেখা দিয়েছে।স্থানীয়দের কথায় জানা যায়, স্কুলের পাশ দিয়ে বা সামনে যে রাস্তা আছে, তাতে যদি কোনো একটি রাস্তায় কালভার্ট বা চঙ বসানো যেত, তাহলে সমস্যা দ্রুত সমাধান করা সম্ভব। কিন্তু, কয়েকজন স্বার্থান্বেষীর কারণে সেই অতি জরুরি কাজটি করা সম্ভব হচ্ছে না। সুখী পাড়া গ্রামের বাসিন্দারা আরও জানান, ‘হাঁটু সমান পানি আমাদের ঘরে ঢুকে গেছে। বেরোনো যায় না, চুলায় আগুন জ্বালাতে পারি না, গরু-ছাগলের রাখার জায়গা নেই। যত দ্রুত সম্ভব পানি বের করার ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করছি।’ দুই শিশু সন্তানের মা বলেন, ‘আমার এখন হাঁটতে শেখা দুই সন্তান আছে। বাড়ির উঠান ও গেটের সামনেই পানি জমে আছে। কখনো দুর্ঘটনা ঘটে যায়, আমি ভয়ঙ্কর বিপদে আছি।’ খাগড় বাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর হামিদ বলেন, ‘মাঠে পানি জমে থাকার কারণে অ্যাসেম্বলির সময়, খেলাধুলা, বাচ্চাদের অন্যান্য কার্যক্রম সবই ব্যাহত হচ্ছে। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে, তা ভীষণ ভয়াবহ হবে। আমি দ্রুত সমাধান চাই।’ প্রশ্ন করা হয়, সমাধান কী? উত্তরে বলেন, ‘স্কুল মাঠ উঁচু করা বা পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, এই একটা সাধারণ উদ্যোগই কার্যকর সমাধান।’বাউসা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদ জানান, ‘এই বিষয়ে জানতে পেরে আমি স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছি, কিন্তু কিছু স্বার্থান্বেষী বিষয়টি বাধাগ্রস্থ করছে। এজন্য আমি উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’ এদিকে, ভারপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুর রহমান বলেন, ‘আমাকে কেউ এই বিষয়ে অবগত করেনি, আপনি জানাতে পেরেছেন, আমি খুব দ্রুত যোগাযোগ করব এবং সমাধানের চেষ্টা করব।’ বাঘা উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাম্মী আক্তার বলেন, ‘আমাকে এ বিষয়ে কেউ জানায়নি, আপনার মাধ্যমেই সমস্যার কথা জানলাম। সরজমিনে গিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
