বাংলাদেশে সরকারের পতনের পর নিরাপত্তার খোঁজে দেশ ছেড়েছেন ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের বহু নেতা-কর্মী। অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজধানী কলকাতা ও আশপাশের এলাকায়। এদিকে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনও বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। বিবিসি বাংলা’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকেই তিনি দেশটিতে আছেন। সম্প্রতি বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কলকাতায় গোপনে একটি পার্টি অফিস পরিচালনা করছেন আওয়ামী লীগের পলাতক নেতা-কর্মীরা। এই প্রতিবেদনের এক অংশে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতির একটি সাক্ষাৎকার তুলে ধরা হয়। যেখানে সাদ্দাম বলেছেন, ‘ত একবছর ধরে ক্যাম্পাসটা খুব মিস করি। দেশে থাকলেও যে গত এক বছরে ক্যাম্পাসে যেতে পারতাম তা নয়।’‘হাজার হাজার ছাত্রলীগের কর্মী-সমর্থক তারা তো দেশে থেকেও ক্যাম্পাসে যেতে পারছেন না একবছর ধরে। তাদের ক্লাস করতে দেওয়া হয় না, তারা পরীক্ষা দিতে পারেন না, পাশ করলেও সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছে না। এদের সবার শিক্ষাক্রমটাই শেষ করে দেওয়া হয়েছে,’ যোগ করেন তিনি।তিনি আরও বলেন, ‘এটা যে শুধু ছাত্রলীগের কর্মীদের সঙ্গে করা হচ্ছে তা নয়। আওয়ামী লীগ করেন বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী এমন পরিবারের ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গেও এই একই ঘটনা হচ্ছে। শুধু যে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে হচ্ছে, তাও নয়। এইচএসসি পরীক্ষা দিতে পারে নি বহু ছাত্রছাত্রী – শুধুমাত্র তারা আওয়ামী লীগ ঘরানার পরিবারের সন্তান বলে।’ ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেইন ছাড়াও ভারতে অবস্থান করছেন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ সহযোগী সংগঠনগুলোর অসংখ্য শীর্ষ নেতা। তাদের মতে, দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা ও কেন্দ্রীয় নেতারা ভারতে থাকায় এখান থেকেই রাজনৈতিক নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতাদের বড় অংশই কলকাতার আশেপাশে রয়েছেন। কেউ সপরিবারে, কেউবা সহকর্মীদের সঙ্গে মিলে একটি ফ্ল্যাটে থাকছেন। দলের ভার্চুয়াল কার্যক্রমে তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে বেশি বলেও জানান নেতারা।আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
