গাজীপুর সদর উপজেলার বানিয়ারচালা এলাকায় এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। পরে তাকে অসুস্থ অবস্থায় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।এ ঘটনায় শিশুটির বাবা জয়দেবপুর থানায় মামলা দায়েরের পর আট দিন পার হলেও পুলিশ এখনো অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে পারেনি। এতে ভুক্তভোগী পরিবার চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।ভুক্তভোগী শিশুটির পিতা জানান, ‘আমার ১১ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী শিশুটি গত ২৮ জুলাই সন্ধ্যায় ছয়টার দিকে স্থানীয় একটি মুদি দোকানে বিস্কুট কিনতে যায়। দোকানের মালিক বাবুল মিয়া (৪২) পান খাওয়ার কথা বলে সুযোগ বুঝে দোকানের ভিতর নিয়ে শাটার বন্ধ করে দেয়। পরে শিশুটিকে ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে।’ধর্ষণের পর শিশুটিকে হুমকি দিয়ে ছেড়ে দেয়। বাসায় ফিরে শিশুটি তার ভাবিকে ঘটনাটি জানায়। এরপর পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও বিষয়টি জানতে পারেন। পরে তারা স্থানীয় কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে অবহিত করলে, তারা বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। কিন্তু রাতেই শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে, তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন শিশুটির বাবা বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।আসামি বাবুল ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট থানার আতু জঙ্গল গ্রামের জালালের ছেলে। সে সদর উপজেলার বানিয়ারচালা এলাকার ইউনুছ আলী বাড়িতে ভাড়া থেকে মুদি দোকানের ব্যবসা করতেন।শিশুটির বাবা আরও জানান, ‘মামলা হওয়ার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত আসামিকে গ্রেফতার করা হয়নি। এতে তারা ন্যায়বিচার নিয়ে শঙ্কায় আছেন। তার দাবি, দ্রুত আসামিকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো প্রতিবন্ধী শিশুর সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে।’স্থানীয়দের অভিযোগ, ধর্ষণের মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনার পরেও অভিযুক্ত বাবুল মিয়াকে গ্রেফতারে পুলিশের কার্যকর কোনো অগ্রগতি চোখে পড়ছে না, যা প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে এলাকাবাসী।জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদ আহমেদ জানান, ‘এ বিষয়ে পুলিশ তৎপর রয়েছে এবং আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’এফএস
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
