শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণ, রাত গভীর হচ্ছে, কিন্তু শিক্ষার্থীদের চোখে নেই ক্লান্তির ছাপ। কারণ মঞ্চে তখন চলছে এক ভিন্ন আয়োজন – ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’২৪ ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। এটি কেবল একটি অনুষ্ঠান ছিল না, বরং ছিল শোক আর প্রতিবাদের এক কাব্যিক মেলবন্ধন।বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠন সপ্তক-এর প্রযোজনায় মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যা যেন জুলাইয়ের শহীদদের স্মরণে এক জলন্ত মশাল হয়ে জ্বলে উঠেছিল। গান, কবিতা আর নাচের ছন্দে ফুটে উঠেছিল সেই গণঅভ্যুত্থানের চিত্র। ‘জ্বলে ওঠো বাংলাদেশ’ কিংবা ‘আজো বাতাসে লাশের গন্ধ পাই’ – এমন সব প্রতিবাদী গান আর কবিতার মাধ্যমে শহীদ সাফোয়ানের পিতা-মাতার করুণ আর্তনাদ যেন মঞ্চে জীবন্ত হয়ে উঠেছিল। ‘তুমি তোমার সন্তানকে কি কাপুরুষ করে গড়ে তুলেছো?’ কিংবা ‘খোকা তুই ঘরে ফিরে আয়’ – এই সংলাপগুলো শুধু শব্দ ছিল না, ছিল প্রতিটি দর্শকের হৃদয়ে বিঁধে যাওয়া এক একটি তীর।অনুষ্ঠানের আরেকটি বিশেষ দিক ছিল স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পালনের দৃশ্য কোরিওগ্রাফির মাধ্যমে উপস্থাপন। এই শক্তিশালী পরিবেশনা দর্শকদের প্রবলভাবে আকৃষ্ট করে। পাশাপাশি ‘শোনো মহাজন আমরা নয় একজন’ গানটি যেন শিক্ষার্থীদের মনে নতুন করে সংগ্রামের আগুন জ্বালিয়ে দেয়।গভীর রাত পর্যন্ত চলা এই অনুষ্ঠান ছিল শোককে শক্তিতে পরিণত করার এক অসাধারণ উদাহরণ। সপ্তকের এই আয়োজনে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কেবল শহীদদের স্মরণ করল না, বরং আগামীর বাংলাদেশের জন্য প্রতিবাদের এক নতুন বার্তা ছড়িয়ে দিল।এ বিষয়ে সপ্তকের সাধারণ সম্পাদক মো: নূর ইসলাম নাঈম বলেন, ‘স্মৃতিবিজড়িত এক অধ্যায় জুলাই। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’২৪ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় মঞ্চ মাতিয়েছে সপ্তক। সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়ে নাচ, গান, কবিতা, কোরিওগ্রাফিতে দর্শক মাতিয়েছে সপ্তক। আমরা চেষ্টা করি, সুস্থ সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে বাঙালী স্পৃহাকে ধরে রাখতে। সপ্তক সবসময় এ চর্চা অব্যাহত রাখবে।’সংগঠনটির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, ‘৫ই আগস্টের মতো তাৎপর্যপূর্ণ দিনে, প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠান আয়োজন করার জন্য। বরাবরের মতোই সপ্তক প্রশাসনের সকল সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় সম্মুখ ভূমিকা পালন করে। সামনের দিনগুলিতে সপ্তক আরও জোরালো ভূমিকা পালন করবে এবং প্রশাসনের কাছ থেকে আমাদের দাবি থাকবে, সাংগঠনিকভাবে যেন সপ্তক-কে সাহায্য সহযোগিতার হাত আরও প্রসারিত করা হয়।’এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
