স্বামীর দেওয়া শেষ স্মৃতি বিগ্রহ হারিয়ে অঝোরে কাঁদছেন মায়াদেবী। বিগত ২৫ বছর আগে স্বামী মৃণাল কান্তি দাস তার স্ত্রী মায়া দেবীকে এই বিগ্রহটি দিয়েছিলেন। বিগ্রহটি দেওয়ার এক বছরের মাথায় মারা যান মৃণাল কান্তি দাস। এরপর থেকে স্বামীর দেওয়া বিগ্রহকে আগলে রেখেছিলেন মায়াদেবী দাস। ধর্মের দিকে আরো নিজেকে এগিয়ে নিতে এ বিগ্রহটি দিয়েছিলেন। সেই বিগ্রহটি চুরি করে নিয়ে গেছে সন্ন্যাসী বেশে আসা এক চোর। মায়া দেবী প্রথম আলো সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি কৃষ্ণচন্দ্র দাসের মা। রবিবার দুপুরে কুমিরা ইউনিয়নের মহজিদ্দা ইউনিয়নের একটি মন্দিরে এই ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেশভূসা সন্ন্যাসীর মত। পরনে সাদা ধুতি, মাথায় পাগড়ীর মত ধুতি প্যাঁচানো। কাঁধে একটি ঝোলা নিয়ে সন্ন্যাসীর বেশে মন্দিরের ভেতরে ঢুকেন এক ব্যক্তি। দুই মিনিটে কাঁসা পিতলের তৈরি বিগ্রহ, তৈজসপত্র, কাসা ঘন্টা, মন্দিরের প্রণামির নগদ টাকা চুরি করে চলে যান। ঘটনাটি দিনে ঘটলেও রাতেই সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্ন্যাসীবেশে চুরি করার চাঞ্চল্যকর বিষয়টি উঠে আসে।এই ঘটনায় আজ সোমবার সীতাকুণ্ড থানায় একটি ডায়েরি করার কথা জানিয়েছেন সাংবাদিক কৃষ্ণচন্দ্র দাস।সাংবাদিক কৃষ্ণচন্দ্র দাস বলেন, ‘হিন্দু বাড়িতে বিভিন্ন সন্ন্যাসী প্রতিদিন কীর্তন করতে আসেন। ফলে সন্ন্যাসীদেরকে কেউ সন্দেহ করেন না। তারা কীর্তন গেয়ে বাড়িতে প্রবেশ করলেও গতকাল ওই ব্যক্তি নিঃশব্দে বাড়িতে প্রবেশ করেছেন। মূলত ওই ব্যক্তির চুরির উদ্দেশ্যে বাড়িতে প্রবেশ করেছিলেন।’সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, সন্ন্যাসী বেশে আসা ওই ব্যক্তি প্রথমে আশপাশের বসত ঘরে উঁকি ঝুঁকি দেন। এক মিনিটের মাথায় তিনি মন্দিরে প্রবেশ করেন। দুই মিনিট পর্যন্ত মন্দিরে ছিলেন তিনি। এরপর বেরিয়ে যান। এদিকে চুরি হওয়ার ঘটনার পর থেকে অঝোরে কাঁদছেন মা। তাছাড়া মাকে অনেকবার বলেছি, ‘জিনিসগুলো পুনরায় আমি আবার কিনে দিবো।’ কিন্তু আমার মাকে বিষয়টি কিছুতেই মানানো যাচ্ছে না। মা কান্না করে আমাকে বলছেন, ‘তোর বাবার দেওয়া স্মৃতি তুই কিভাবে কিনে দিবি। তুই যতই কিনে দিস না কেন, এ গুলোতে ছিল তোর বাবার স্মৃতি ও ভালোবাসা।’স্থানীয় দোকানী প্রবীর চৌধুরী বলেন, ওই সন্ন্যাসী বাড়ির ভেতর থেকে বের হয়ে এসে তার থেকে দান চেয়েছেন। পাশাপাশি বলেছেন, ‘বাড়ির সকল মানুষ ঘুমে রয়েছে। সেজন্য তিনি কোন দান পাননি।’সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান বলেন, ঘটনাটি শোনার পর আজ সোমবার সকালে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করার কথা জানিয়েছেন ওই সাংবাদিক। তবে পুলিশ ওই চোরকে ধরার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।এর আগে গতকাল রোববার সীতাকুণ্ডের ভোলা গিরি সেবাশ্রমে মন্দিরে এক যুবক ঢুকে মন্দিরে জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে যায়।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
