সড়ক যেন চাষের জমি। সামান্য বৃষ্টিতে হলেই হাটু পানিতে কাদামাটিতে একাকার সড়ক। আর বর্ষা মৌসুমে সড়কে চলাচল যেন দুর্বিষহ এক যাত্রা। আবার দীর্ঘদিন ধরেই হচ্ছে না সংস্কার। মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার কুচিয়ামোড়া থেকে রামকৃষ্ণদি গ্রাম পর্যন্ত সাড়ে ৬ কিলোমিটার সংস্কার না হওয়ার প্রতিবাদে সড়কে ধানের চারা রোপন করেছেন গ্রামবাসী। একই সঙ্গে করেছেন মানববন্ধন।সোমবার(৪ আগস্ট) বেলা ১১ টার দিকে সর্বস্তরের গ্রামবাসীর ব্যানারে উপজেলার কুচিয়ামোড়া কলেজ গেট, গোডাউন বাজার, পাথরঘাটা ও রামকৃষ্ণদি গ্রামে আলাদা আলাদা ভাবে একযোগে এ মানববন্ধন করে। ওই মানববন্ধনে গ্রামগুলোর শতশত নারী-পুরুষ ও স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এসময় পাথরঘাটা এলাকায় সড়কে ধানের চারা রোপন করে সংস্কার না হওয়ার প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী।স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ ট্রাক-মাহিন্দ্রার মালিকরা প্রভাবশালী হওয়ায় প্রশাসন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছেই।উপজেলার পাথরঘাটা শাহী বাজারের ব্যবসায়ী শামীম সরদার বলেন, ‘আমাদের এলাকার সন্তান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তার বাড়ি এই সিরাজদীখান। তার এলাকার রাস্তা যদি এই অবস্থা হয় তাহলে সেটা খুব লজ্জাজনক।’ লতব্দী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন খান খোকন বলেন, ‘আমি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে সড়ক সংস্কারে কাজে আসতে পারছি না। এ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের মুখ দেখেনি। বারবার দাবি জানিয়েও কাজ না হওয়ায় অবশেষে মানববন্ধনের পাশাপাশি ধানের চারা রোপণ করে প্রতিবাদ জানালেন গ্রামবাসী।’অটোরিকশা চালক মো. রহিম উদ্দিন বলেন, ‘এই রাস্তা মূলত হালকা যানবাহনের জন্য নির্মিত হয়েছিল। আগে যখন শুধু সিএনজি, অটো বা বাইসাইকেল চলত, তখন কোনো সমস্যা হতো না। কিন্তু এখন নিয়মিতভাবে ইট, বালু ও মাটি বহনকারী ভারী মাহিন্দ্রা ও ড্রাম ট্রাক এই সরু রাস্তায় চলাচল করছে। ফলে রাস্তায় সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত আর ধুলার আস্তরণ। যাত্রী নিয়ে চলতে গিয়ে প্রতিদিনই দুর্ঘটনার শঙ্কা থাকে। গাড়ির ক্ষতি তো হচ্ছেই, আমাদের জীবনও ঝুঁকিতে পড়ছে।’মোটরসাইকেল চালক তানভীর আহমেদ বলেন, ‘রাস্তার গর্ত আর ভাঙাচোরা অবস্থার কারণে প্রতিদিনই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। আমি নিজেই একদিন সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে রাস্তার একটি গর্তে পড়ে গিয়ে মারাত্মকভাবে আহত হই। আমাকে হাসপাতালে যেতে হয়। এই রাস্তা দিয়ে চলাচল এখন যেন আত্মহননের শামিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে চলতে হয়।’খিদিরপুর গ্রামের বাসিন্দা ফেরদৌস হাসান রাতুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার বাড়ি থেকে কুচিয়ামোড়া যাওয়ার এটিই একমাত্র রাস্তা। অন্য কোনো বিকল্প পথ নেই। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে আমরা প্রচণ্ড কষ্টের মধ্যে পড়ছি। বিশেষ করে অসুস্থ রোগী বা শিশুদের নিয়ে চলা হয়ে দাঁড়িয়েছে দুর্বিষহ। অবৈধভাবে ইট-বালু বহনকারী মাহিন্দ্রা ও ড্রাম ট্রাক চলাচলের কারণে রাস্তাটি একাধিক স্থানে ভেঙে পড়েছে। এখনই এই সড়কের স্থায়ীভাবে মেরামতের ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।’এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. আসিফ উল্লাহ বলেন, ‘২০২৩-২৪ অর্থবছরে আমরা রাস্তাটি সংস্কার করে ছিলাম। কিন্তু আশপাশের ইটভাটা ও মাটি বহনকারী মাহিন্দ্রা এবং ড্রাম ট্রাক চলাচলের কারণে রাস্তাটি অল্প সময়েই আবার নষ্ট হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে অফিস থেকে টেকনিক্যাল টিম পাঠিয়ে পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে শুধু এলজিইডির কাজ করলেই হবে না, স্থানীয়দের সচেতনতা এবং সহযোগিতাও প্রয়োজন। রাস্তায় ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ না হলে পুনঃসংস্কারের পরও একই অবস্থা ফিরে আসবে।’এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
