জুলাই–আগস্টের গণহত্যায় জড়িতদের বিচার প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও পুলিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে কার্যকর জবাবদিহির অগ্রগতি নেই বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলেছে, বিচারের ধীরগতি এবং বিচ্ছিন্ন কিছু বিভাগীয় পদক্ষেপ ছাড়া পুলিশের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া সরকারের সদিচ্ছা ও সক্ষমতার ঘাটতিকে নির্দেশ করে।আজ সোমবার (৪ আগস্ট) বেলা ১১টায় রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে টিআইবির কার্যালয়ে ‘কর্তৃত্ববাদী সরকার পতন-পরবর্তী এক বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন মন্তব্য করা হয়। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন টিআইবির পক্ষ থেকে শাহজাদা এম আকরাম।প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকার পতনের পর ১১ মাসে ছাত্র-জনতার ওপর হামলাকারী ও হত্যার নির্দেশদাতা–ইন্ধনদাতাদের বিরুদ্ধে সারাদেশে ২০২৫ সালের ১ জুন পর্যন্ত ১ হাজার ৬০২টি মামলা হয়েছে, যার মধ্যে ৬৩৮টি হত্যা মামলা। টিআইবির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, এসব মামলার প্রায় ৭০ শতাংশের তদন্তে সন্তোষজনক অগ্রগতি হয়েছে এবং ৬০ থেকে ৭০টি হত্যা মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে।তবে পুলিশের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার প্রসঙ্গে টিআইবি জানায়, গত ১১ মাসে সারাদেশে পুলিশের বিরুদ্ধে ৭৬১টি মামলায় মোট ১ হাজার ১৬৮ জন পুলিশ সদস্যকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছে মাত্র ৬১ জন। ট্রাইব্যুনালে পুলিশের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রমেও ধীরগতি লক্ষ করা গেছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত মোট ৪২৯টি অভিযোগ জমা পড়েছে এবং ২৭টি মামলা হয়েছে, যেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২০৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৭৩ জনকে।সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি বলেছে, অবস্থা এমন যে, অনেক ক্ষেত্রেই জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষমতাহীন রয়ে গেছে, যা বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে।গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, ফেলো মো. জুলকারনাইন, ফারহানা রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
