যশোর শহরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বসানো ৬০টি ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা অচল হয়ে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এগুলো সচলের উদ্যোগ গ্রহণ করছে না। ফলে ফ্রি স্টাইলে অপরাধ করার সুযোগ নিচ্ছে দুর্বৃত্তরা। এতে জনমনে আতঙ্ক বাড়ছে।যশোর পৌরসভা সূত্র জানায়, গত ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় শহরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত হয়। পরে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে যশোর পৌরসভার মাধ্যমে শহরের গুরুত্বপূর্ণ ৭৬টি পয়েন্টে সিসি ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা হয়। ২০১৮ সালে পর্যায়ক্রমে ২১০টি সিসি ক্যামেরা বসানো হয়।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৯ সাল পর্যন্ত ক্যামেরাগুলো সচল ছিল। এরপর থেকে একে একে ৬০টি ক্যামেরা অচল হয়ে পড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ও ক্রাইম খ্যাত এলাকার সিসি ক্যামেরাগুলো নষ্ট হওয়ায় জনসাধারণ আতঙ্কের মধ্যে চলাচল করেন। কেননা দুর্বৃত্তরা এখন নির্বিঘ্নে অপরাধ করার সাহস পাচ্ছে। এর আগে সিসি ক্যামেরার ভয়ে দুর্বৃত্তরা সেখানে ভিড়তে সাহস পেত না। যশোর শহরের প্রাণকেন্দ্র দড়াটানা মোড়ে তিনটি সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছিল। বর্তমানে তিনটি অচলাবস্থায় আছে।এছাড়া শহরের জজকোর্ট মোড়, এম কে রোডের সিসি ক্যামেরা নষ্ট হয়ে গেছে। অথচ দুর্বৃত্তদের দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল।স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সিসি ক্যামেরাগুলো অচল থাকায় অপরাধীদের চিহ্নিত ও অপরাধ দমনে পুলিশ প্রশাসনের বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। চুরি, ছিনতাইসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করার পরও অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) নূর-ই-আলম সিদ্দিক জানান, ইতিপূর্বে খুনসহ নানা অপরাধ ঘটানোর পর সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত করা হয়েছে। সিসি ক্যামেরা মানুষের অনেকটা নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। ফলে অচল ক্যামেরাগুলো সচল করা উচিত।যশোর পৌরসভার প্রশাসক রফিকুল হাসান জানান, অচল ক্যামেরাগুলো সচলের বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।এআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
