যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পোশাকপণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে। তবে এই ইতিবাচক অগ্রগতি সত্ত্বেও, আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ দেখছে না দেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ।শনিবার (২ আগস্ট) রাজধানীতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘আমাদের আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ নেই। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, কিছু দেশের সঙ্গে এখনো বাণিজ্য ও নিরাপত্তা চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। এসব চুক্তি সম্পন্ন হলে সেসব দেশের জন্য শুল্ক আরও কমে যেতে পারে। তাই বাংলাদেশকেও আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে।’দ্বিতীয় মেয়াদের যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শতাধিক দেশের ওপর উচ্চহারে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। বাংলাদেশের ওপর আরোপ হয় ৩৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনার পর গত বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত শুল্ক কমিয়ে ২০ শতাংশে আনার ঘোষণা আসে। সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ জানায়, এই ২০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক যুক্ত হওয়ায় মোট গড় শুল্ক হার দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৩৬.৫ শতাংশ, যা বিভিন্ন পণ্যে ভিন্ন ভিন্ন হারে কার্যকর হবে।মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘২০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আমাদের পণ্যের উৎপাদন খরচ বাড়াবে। তাই ছোট ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো যাতে টিকে থাকতে পারে, সেদিকে সরকারকে নজর দিতে হবে। এনবিআরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করাও জরুরি।’তিনি আরও জানান, এখনকার শুল্কহার বাংলাদেশকে প্রধান প্রতিযোগী দেশ চীন ও ভারতের কাছাকাছি অবস্থানে নিয়ে এসেছে।তিনি বলেন, ‘আগে আমরা যুক্তরাষ্ট্রে গড়ে ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ হারে এমএফএন (মোস্ট ফেডারড নেশন) শুল্ক দিতাম। এখন যে ২০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক নির্ধারিত হয়েছে, এর ফলে আমাদের মোট শুল্কের হার দাঁড়াল গড়ে ৩৬ দশমিক ৫ শতাংশ, যা সুনির্দিষ্টভাবে বিভিন্ন পণ্যের জন্য বিভিন্ন হারে প্রযোজ্য হবে ।’তিনি জানান, ‘আমাদের মার্কিন রপ্তানির প্রায় ৭৫ শতাংশ হচ্ছে তুলাভিত্তিক পোশাক। শুল্কসংক্রান্ত নির্বাহী আদেশে বলা আছে, যদি ন্যূনতম ২০ শতাংশ আমেরিকার কাঁচামাল (যেমন তুলা) ব্যবহার করা হয়, তাহলে আমেরিকার কাঁচামালের মূল্যের ওপর এই অতিরিক্ত ২০ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য হবে না। অর্থাৎ আমেরিকার কাঁচামাল ব্যবহার করলে আমরা বাড়তি কিছু শুল্ক ছাড় পাব।’বিজিএমইএ জানায়, বাংলাদেশের মোট রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রে, যার ৮৭ শতাংশই তৈরি পোশাক। এই বাজারে প্রতিযোগিতা টিকিয়ে রাখতে সরকার ও উদ্যোক্তাদের কৌশলগত প্রস্তুতি আরও জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়।আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
