ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী ও স্বজনদের ভিড় এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সম্প্রতি এক নির্দেশনায় বলা হয়, একজন যাত্রীর সঙ্গে সর্বোচ্চ দুজন প্রবেশ করতে পারবেন। কিন্তু বাস্তবে টার্মিনাল-১ ও টার্মিনাল-২ এর ফটকজুড়ে এখনো স্বজনদের জটলা। কেউ ধূমপান করছেন, কেউ মাটিতে বসে আছেন, অনেকে উচ্চস্বরে কথা বলছেন। পরিবেশ যেন দেশের প্রধান বিমানবন্দর নয়, বরং একটি ব্যস্ত মাছ বাজার।বুধবার (৩০ জুলাই) বিকেলে সরেজমিনে এ চিত্র দেখা যায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। ডিপারচার ড্রাইভওয়ে ও অ্যারাইভাল ক্যানোপিতে (বহির্গমন ও আগমনী এলাকা) যাত্রীর সঙ্গে দুজনের বেশি যেতে পারবে না- এমন নির্দেশনা দিয়েই যেন দায় সেরেছে শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। নির্দেশনা বাস্তবায়নে কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। ছিল না কোনো প্রচার-প্রচারণা।প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন এ বিমানবন্দর দিয়ে। একজন যাত্রীকে গড়ে চারজন স্বজন বিদায় দিতে আসেন, ফলে দিনে প্রায় ৮০ হাজার বাড়তি মানুষের সমাগম ঘটে। এতে বিদেশি যাত্রীরা দেশের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা নিয়ে ফিরছেন বলে মত দেন অনেকে।যাত্রী মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘বিমানবন্দর দেশের ভাবমূর্তির প্রতীক। কিন্তু এখানকার বিশৃঙ্খল পরিবেশ বিদেশিদের কাছে আমাদের দেশের বিরূপ চিত্র তুলে ধরে।’ প্রবাসী আরিফ খন্দকার বলেন, ‘ওমানে কেউ যাত্রীর সঙ্গে বিমানবন্দরে আসে না। সেখানে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা কঠোর।’নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও জানান, অতিরিক্ত লোকজনের কারণে দায়িত্ব পালন কঠিন হয়ে পড়ে।বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ বলেন, ‘বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে এখনো অনেকে জানেন না বলে কিছুটা ছাড় দেওয়া হচ্ছে। তবে আগামী সপ্তাহ থেকে আমরা আরও কঠোর হবো।’বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে তা কার্যকর হচ্ছে না। দেশের ভাবমূর্তি রক্ষায় বিমানবন্দরের পরিবেশ উন্নয়নে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দিয়েছে যাত্রীরা ও সচেতন মহল।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
