পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (৫০ শয্যা) অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ সময় খাবার, ঔষধ ও এক্সরে নিয়ে নানা অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেছে।বুধবার (২৩ জুলাই) দুপুর ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগীদের দুপুরে নিম্নমানের খাবার পরিবেশন ও মজুত ঔষধ রোগীদের না দিয়ে বাইরের দোকান থেকে কিনতে বাধ্য করার অভিযোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।দুদকের সমন্বিত পাবনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাধন সূত্রধরের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। প্রথমে বর্হিবিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সঙ্গে কথা বলে হাসপাতালে বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে তারা ব্যাপক দুর্নীতির শঙ্কা পেয়ে এ অভিযান শুরু করে।জানা গেছে, এই হাসপাতালে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার দ্বারা রোগীদের প্রেসক্রিপশন তৈরি করে তাদের বাইরে থেকে ঔষধ কিনতে বাধ্য করা হয়। হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের যে খাবার পরিবেশন করা হয় তা ডায়েট চার্ট অনুযায়ী দেওয়া হয় না। শুধু তাই নয়, দীর্ঘ সময় এক্সরে বন্ধ করে পুরাতন বিভিন্ন মেশিনারি, যেগুলো সরকারি খাত থেকে এ হাসপাতালে দেওয়া হয়েছে, তার কোনো তালিকা দেখাতে পারেননি। এছাড়া নতুন মেশিনারি দেওয়ার পর সেই পুরাতনগুলো কোথায় রয়েছে, তার কোনো সঠিক সদুত্তর দিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। দুদকের এ অভিযানে বাহ্যিক আরো অনেক দুর্নীতি রয়েছে ধারণা করে অভিযানটি চলমান রয়েছে।এদিকে হাসপাতালে ভর্তি থাকা কয়েকজন রোগী ও স্বজনরা অভিযোগ করে জানান, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে নোংরা পরিবেশে থাকতে হচ্ছে। বাথরুম ব্যবহার করার অনুপযোগী। চড়া দামে ঔষধ কিনতে হয় বাইরে থেকে। এখানে অসুস্থ থেকে সুস্থ হতে এসে যেন আরো অসুস্থ হয়ে যেতে হয়।অভিযানে দুর্নীতি ও অনিয়মের ব্যাপারে দুদকের সমন্বিত পাবনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘আমাদের প্রাথমিক অনুসন্ধানে আমরা যতগুলো অনিয়ম পেয়েছি, তাতে মনে হচ্ছে এ হাসপাতালে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক অনেক অনিয়ম রয়েছে। আমাদের অভিযান সন্ধ্যা পর্যন্ত চলমান থাকবে। সম্পূর্ণ অভিযান শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।’এআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
