প্রতারণা ও মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সাত বিয়ে করা সেই রবিজুল ইসলামকে (৪২) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার (২০ জুলাই) সকালে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে মানবপাচার ও আর্থিক প্রতারণার বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।গ্রেফতার রবিজুল ইসলাম কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের পাটিকাবাড়ি গ্রামের মিয়াপাড়ার আয়নাল মণ্ডলের ছেলে। সাত নারীকে বিয়ে করা ও একসঙ্গে ঘর-সংসার করায় রবিজুল ব্যাপক আলোচিত-সমালোচিত মুখ।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিজুল মানবপাচার চক্রের সক্রিয় সদস্য। কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, রাজবাড়ীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় সাধারণ মানুষকে লিবিয়ার নিয়ে গিয়ে ইতালি পাঠিয়ে ভালো বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করার অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণার শিকার বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগীর অভিযোগ ও মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।রবিজুলের প্রতারণার শিকার হওয়া ভুক্তভোগী তানজির শেখ বলেন, ‘রবিজুল লিবিয়ায় দীর্ঘ ১২ বছর ছিলেন। মাফিয়া চক্রের সঙ্গে রবিজুল দালালের সুসম্পর্ক। তিনিও ওই চক্রের সদস্য। আমার বাবা রবিজুলের মাধ্যমে আমাকে লিবিয়ায় পাঠিয়েছিলেন। সেখানে যাওয়ার পর আমাকে প্রলোভন দেখিয়ে ইতালি পাঠানোর কথা বলে মাফিয়া চক্রের কাছে বিক্রি করে দেন রবিজুল। পরে মুক্তিপণের দাবিতে তারা আমাকে ৯ মাস বন্দি করে রাখে এবং পরিবারের কাছ থেকে দফায় দফায় ৩৪ লাখ টাকা নেন। সারাদিন বেঁধে রাখতো। খাবার দিতো না, তিনবেলা শুধু মারতো। মারতে মারতে শরীর ফাটিয়ে ফেলতো। ক্ষত জায়গায় ইনফেকশন হয়ে পচে যেত। কোনো ওষুধ দিতো না। ভাত দিতো না।’মানবপাচার চক্র প্রসঙ্গে তানজির শেখ জানান, ‘লিবিয়ার ওই মাফিয়া চক্রে ১৫-২০ জন সদস্য রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫-৭ জন লিবিয়ার নাগরিক। প্রধান মাফিয়া লিবিয়ার আলী। উনি ওসামার ভাগনে বলে পরিচিত। মাফিয়া চক্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন যুক্ত আছেন। তাদের বাসা মাদারীপুর, সিলেট ও শরীয়তপুরে। তাদের মধ্যে একজনের নাম পিচ্চি সোহেল। তার বাড়ি মাদারীপুর আর কুষ্টিয়ার রবিজুল।’এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
