শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার নরসিংহপুর ফেরিঘাটে ইজারা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার জেরে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। শুক্রবার (১৮ জুলাই) ভোররাত থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই ঘাটে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী ও পণ্যবাহী পরিবহন শ্রমিকরা।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর-চাঁদপুর নৌরুটের গুরুত্বপূর্ণ এই ফেরিঘাটটির ইজারা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জেলা যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি মমিন দিদার ও সখিপুর থানা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিসান বালার মধ্যে টানাপড়েন চলছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার (১৮ জুলাই) সকালে এক পক্ষ ইজারা উত্তোলনের চেষ্টা করলে অপর পক্ষ বাধা দেয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কায় ফেরি চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।নরসিংহপুর ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক ইকবাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ঘাটের ইজারা নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। ঘাটে দীর্ঘ লাইনে আটকে পড়া যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। আমরা বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়েছি এবং দ্রুত সমাধান আশা করছি।’ জানা যায়, ২০০১ সালে শরীয়তপুর-চাঁদপুর ফেরি রুট চালু হওয়ার পর থেকে এটি দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল ও বেনাপোলগামী পণ্য ও যাত্রী পরিবহনে এই ঘাটের বিকল্প নেই। ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় ব্যবসায়িক ও পণ্য পরিবহনে মারাত্মক সমস্যা দেখা দিয়েছে।খুলনা থেকে চট্টগ্রামগামী ট্রাকচালক আবুল হোসেন বলেন, ‘আমরা সেই ভোর রাত থেকে এখানে আটকে আছি। এই সমস্যা সমাধানের এখনো কোনো গতি দেখতে পাচ্ছি না। এই রুটের রাস্তা এমনিতেই অনেক ভাঙ্গা আমাদের চলাচল করতে অনেক বেগ পেতে হয়। সময় মতো পণ্য পৌঁছাতে না পারলে আমাদের অনেক ক্ষতি হবে।’স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ‘রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে যারা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তারা দ্রুত ফেরি চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।’এ বিষয়ে সখিপুর থানা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিসান বালার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি বৈধভাবে ইজারা নিয়েছি এবং বৈধভাবে ঘাট পরিচালনা করে আসছি। আমার লোকজন ঘাটে ইজারা উঠাতে গেলে গতকাল রাতে এবং আজ সকালেও মমিন দিদারের লোকজন বাধা দেয় এবং মারধর করে।’তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, ‘সরকার এক বছরের জন্য আমাকে ঘাট ইজারা দিয়েছে। তবে প্রাক্তন ইজারাদার মোমিন দিদার দাবি করছেন তিনি উচ্চ আদালত থেকে ইজারার পক্ষে রায় পেয়েছেন। তবে আদালত থেকে আমি কোনও কাগজ হাতে পাইনি। যেহেতু এক বছর পূর্ণ হয়নি, সেহেতু আমিই তো ইজারাদার। আর যদি রায় পেয়েও থাকে তাহলে বিআইডিব্লিউটিসি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে, মোমিন দিদার তো নিতে পারে না। তিনি এখন গাড়ি বন্ধ করে তাঁর লোলজন নিয়ে চাঁদাবাজি করছে। এই বিষয় নিয়েই ঝামেলা চলছে।’এদিকে জেলা যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি মোমিন দিদার বলেন, ‘বৃহস্পতিবার উচ্চ আদালত থেকে আমি ইজারাদার হিসেবে রায় পেয়েছি। পরে আমার লোকজন ফেরিঘাটে কাজ করছে। কিন্ত জিসান বালা বিভিন্নভাবে বাঁধা প্রদান করছেন। এই রুটের গাড়িগুলো উল্টো পথে ফিরিয়ে দিচ্ছে।’নরসিংহপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির আইসি ইয়াসিন উজ্জামান সময়ের কণ্ঠস্বর কে বলেন, ‘ঘাটে ইজারা উঠানো কে কেন্দ্র করে বর্তমানে ইজারাদার জিসান বালা ও সাবেক ইজারাদার মোমিন এরমধ্যে কিছুদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছে। শুনেছি এ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান আছে। তাদের এই দ্বন্দ্বের কারণে ফেরি চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে। আমরা অতি দ্রুত ফেরি চলাচল স্বাভাবিক করতে ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।’আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
