পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় ভাইরাস জ্বরের প্রকোপ বেড়েছে। সেই সঙ্গে দেখা দিয়েছে সর্দি-কাশি। গত সাত দিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কমপক্ষে এক হাজারেরও বেশি রোগী জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন। এর মধ্যে শিশুদের সংখ্যা বেশি।বুধবার (১৬ জুলাই) হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, বর্হিবিভাগে রোগীর উপচেপড়া ভিড়, যার মধ্যে অধিকাংশই জ্বরে আক্রান্ত। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, দৈনিক দেড়শো এর বেশি রোগী জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বর্তমানে ভর্তি আছেন ৬৪ জন, এর মধ্যে ৩৫ জনই জ্বরে আক্রান্ত রোগী।সূত্রে জানা গেছে, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে এই ভাইরাস জ্বরের প্রকোপ বেড়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ১০২-১০৪ ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়ছে। সর্বোচ্চ সাত দিন পর্যন্ত ভুগতে হচ্ছে এসব রোগীদের। জ্বরের সঙ্গে দেখা দিচ্ছে সর্দি-কাশি। জ্বর আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় প্যারাসিটামল ও অ্যান্টিবায়োটিক-জাতীয় ওষুধ বিক্রি বেড়ে গেছে ওষুধের দোকানগুলোতে। যাদের সামর্থ্য আছে, তারা দ্রুত সুস্থ হওয়ার জন্য অ্যান্টিবায়োটিক-জাতীয় ওষুধ কিনে খাচ্ছেন। জ্বরে আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তির শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভূত হয়। বিছানা থেকে উঠতে পর্যন্ত কষ্ট হয়। স্বাভাবিক খাওয়া-দাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। ভাইরাস জ্বরের পরিবারের একজন আক্রান্ত হলে অন্যদের মাঝেও জ্বর ছড়িয়ে পড়ছে।উপজেলার সংবাদকর্মী এইস এম বাবলু (৪৫) বলেন, তার প্রথম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হলে একে এক দুই মেয়েসহ তিনি ও তার স্ত্রী জ্বরে আক্রান্ত হন। প্রায় ৭ দিন পর তারা সুস্থ হয়েছেন। মানবাধিকার কর্মী অতুল পাল (৬০) বলেন, সম্প্রতি তিনি জ্বর থেকে সেরে উঠেছেন। জ্বর থেকে পরিত্রাণ পেলেও তার শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভূত হচ্ছে। বিছানা থেকে উঠতে পর্যন্ত কষ্ট হয়। মুখে রুচি কমে যাওয়ার কারণে স্বাভাবিক খাওয়া-দাওয়া নেই বললেই চলে।পল্লী চিকিৎসক পরিতোষ মিত্র বলেন, প্রতিদিন কমপক্ষে ২৫ থেকে ৩০ জন জ্বর আক্রান্ত রোগী তার কাছে চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন। এর মধ্যে শিশুর সংখ্যা বেশি। যে রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন, তাদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা নেওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়।এদিকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য চিকিৎসা পরামর্শের জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মোবাইল ০১৭৩……২৬ নম্বরটি বন্ধ রয়েছে।বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রউফ বলেন, স্বাভাবিকভাবে ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তি তিন থেকে চার দিনের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠছে। তবে সাত দিন হয়ে গেলে ওই রোগীকে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। আক্রান্ত রোগীকে অ্যান্টি হিস্টামিন-জাতীয় ওষুধের পাশাপাশি প্যারাসিটামল-জাতীয় ওষুধ নিয়মমাফিক সেবনের পরামর্শ দেন। এ ছাড়াও ভিটামিন-সি জাতীয় খাবার যেমন, লেবুর সরবত, মাল্টা, জাম্বুরা ও কমলা খেলে এ সময় শরীরের জন্য খুবই উপকারী।মোবাইল নম্বর বন্ধের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সিমটি নষ্ট (ব্লক) হয়ে যাওয়ার কারণে বন্ধ রয়েছে। শিগগিরই চালু করা হবে।এসকে/আরআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
