পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় টানা ১৫ দিনের বৃষ্টির পানিতে ৫৬১ হেক্টর জমির আমন বীজ পানির নীচে তলিয়ে আছে। দীর্ঘ দিন ধরে পানির নীচে বীজ থাকার কারণে বীজ পচে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন চাষিরা। এতে করে চলতি আমন মৌসুমে কৃষকের বীজ সংকটে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৩৪ হাজার ৭১৮ হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে উফসি, হাইব্রিড ও দেশি প্রজাতির ধান রয়েছে। চলতি মৌসুমে আমনের বীজতলা করা হয়েছে ১,২০০ হেক্টর জমিতে। সম্প্রতি টানা ১৫ দিনের বৃষ্টির কারণে নিম্নাঞ্চলের ৫৬১ হেক্টর জমির বীজ পানির নীচে তলিয়ে গেছে।সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার চরকালাইয়া, শৌলা, বগি, কর্পূরকাঠি, দাশপাড়া, চৌমোহনী, আদাবাড়িয়া, নওমালা, নাজিরপুর ও মমিনপুর এলাকায় আমন ধানের বীজতলা পানিতে ডুবে গেছে। বেশ কয়েক দিনের জলাবদ্ধতার কারণে প্রায় জমির চারার গোড়া পচন ধরেছে। অনেক জমির বীজ ধান পানির তোড়ে ভেসে গেছে। নদী বা খালের পাশের জমির পানি কমতে শুরু করলেও বীজতলা পানির নীচে রয়েছে।চরকালাইয়া গ্রামের চাষী খোকন প্যাদা বলেন, ‘গত ১৫ দিনের টানা বৃষ্টিতে বীজতলা ডুবে বীজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পানি না কমলে নতুন করে বীজ লাগানো সম্ভব নয়। অনেকের বীজ ধানও নেই। এখন সরকারের বীজ সহায়তা প্রয়োজন।’দাশপাড়া গ্রামের চাষী মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘প্রথমবার ৭ মন ধানের বীজ করলে বৃষ্টির পানিতে কিছু ভেসে গেছে, কিছু পচে গেছে। সম্প্রতি টানা বৃষ্টির আগে ৫ মন ধানের বীজ করেছি, তাও এখন পানির নীচে। এই বীজ যদি না টিকাইতে পারি তাহলে এবার আমন ধান চাষে বীজের সংকট হবে।’আদাবাড়িয়া এলাকার চাষি রাকিব বলেন, ‘সব বীজ শেষ। এবছর জমি খালি থাকার শঙ্কা রয়েছে। বীজ সংকটের কারণে এসব জমি খালি থাকবে। সরকারের দ্রুত বীজধান সহায়তা দিয়ে কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। না হলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে না।’উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মিলন বলেন, ‘বীজতলায় পানি জমে থাকায় অনেক এলাকায় বীজতলা নষ্ট হয়েছে। আমরা কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কাজ করছি। পানি কমলেই সঠিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার আওতায় নিয়ে আসা হবে। আশা করছি আমন চাষ ব্যাহত হবে না।’এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
