সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন অনুযায়ী ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষে ‘আনোয়ারা মুজাহিদ নার্সিং কলেজে’ বিএসসি ইন নার্সিং কোর্সে ২০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হন। সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলভিত্তিক এই কলেজে ভর্তি ও পাঠদান চললেও, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের চূড়ান্ত প্রশাসনিক অনুমোদন না থাকায় শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়নি। এ নিয়ে একাধিকবার আবেদন করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।এবিষয়ে পরবর্তীতে কলেজ কর্তৃপক্ষ হাইকোর্টের শরণাপন্ন হলে আদালত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের উপযোগী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তবে আদালতের নির্দেশনার পরও বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করেছে আনোয়ারা মুজাহিদ নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীদের বাইরে রেখেই। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে গত ১১ মার্চ ২০২৫ তারিখে একটি সরকারি স্মারক (নং: ৫৯.০০.০০০০.১৪৩.১৮.০০১.২৪.১১১) জারি করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০ এপ্রিল কলেজটি পরিদর্শনে একটি কমিটিও গঠন করা হয়। কিন্তু এরপর নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের এক নোটিশে কলেজটির নাম থাকলেও দ্বিতীয় নোটিশে সেটি বাদ পড়ে যায়।শিক্ষার্থীরা বলছেন, বছরজুড়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পর এখন তারা পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারায় ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। হাওরাঞ্চলের মতো একটি অবহেলিত অঞ্চলে শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি হলেও, প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাবে সে সুযোগ এখন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ৮ মে রেজিস্ট্রেশনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও, আনোয়ারা মুজাহিদ নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। এ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অভিভাবক ও শিক্ষার্থী—আদালতের নির্দেশনার পরও কেন তাদের পরীক্ষা নেওয়া হলো না?মহামান্য আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও বাদ পড়া শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়া হয়নি কেন—এই প্রশ্নের জবাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন, প্রফেসর ডা. নাজমুল ইসলাম জানান, তারা হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না নেওয়ায় রেজিস্ট্রেশন ফর্ম প্রদানের সুযোগ নেই।তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়হীনতার কারণেই তারা এমন সংকটে পড়েছেন। কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, সব ধরনের প্রশাসনিক শর্ত পূরণ করে আবেদন করা হলেও বিশ্ববিদ্যালয় কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ ইসমাইল পাটোয়ারী ব্যস্ততা দেখিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে নির্দেশনা অনুসরণ করে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা আজ পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত। আদালতের নির্দেশনা সত্ত্বেও তাদের অনিশ্চয়তার মধ্যে রেখে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ ও হতাশ পরিবারের সদস্যরা প্রশ্ন তুলছেন—এই দায়িত্বজ্ঞানহীনতার জবাব কে দেবে?এদিকে সিলেটের শিক্ষানুরাগী মহল ও অভিভাবকেরা বলছেন, বছরের পর বছর পরিশ্রম করে যারা এখন পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছে না, তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীদের বাইরে রাখা এক ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা বলেও মন্তব্য করছেন তারা।আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
