বার্মিংহামের এজবাস্টনে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে ভারত। আর এই ইতিহাস গড়তে বিরাট ভূমিকা পালন করেছেন আকাশ দিপ। বল হাতে তিনি তুলে নিয়েছেন ইংল্যান্ডের ১০টি উইকেট। অথচ এই সাফল্যের আড়ালে তিনি লড়ছেন আরও কঠিন এক যুদ্ধে। কেননা, তার বড় বোন লড়ছেন ক্যান্সারের সঙ্গে।ম্যাচ শেষে ধারাভাষ্যকার চেতেশ্বর পুজারার সঙ্গে আলাপকলে চোখে জল নিয়ে আকাশ বলেন, ‘বোনের ক্যান্সার ধরা পড়েছে দু’মাস আগে। কাউকে বলিনি এতদিন। আমার পারফরম্যান্সে অনেক খুশি হবে ও। গত দুই মাস ধরে মানসিকভাবে এত কিছুর মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে ওকে…।’এজবাস্টনের ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে প্রথম ইনিংসে ৪ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়ে ইতিহাস গড়েছেন তিনি। ইংল্যান্ডের মাটিতে ভারতের হয়ে টেস্টে অন্যতম সেরা বোলিং পারফরম্যান্স এটি।লড়াই অবশ্য আকাশের জীবনের প্রতিশব্দ। বিহারের একটি একটি মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসেছেন তিনি। ছোটবেলায় যখন ক্রিকেট খেলতেন, বাবার কাছে নিয়মিতই বকুনি খেতেন আকাশ। টানাটানির সংসারে ক্রিকেটের জায়গা কোথায়!পরিবারের সহায় হতেই একটি কাজের আশায় মাত্র ১৪ বছর বয়সে পশ্চিম বাংলার দুর্গাপুরে আসেন আকাশ। বাবার স্ট্রোক, বড় ভাইয়ের মৃত্যু এসব কিছুও দমাতে পারেনি কিশোর আকাশ দিপকে। ছোট ছোট ক্লাবের হয়ে খ্যাপ খেলে সংসার চালাতেন। একটু থিতু হওয়ার পর ফের ক্রিকেটের টানে কলকাতায় পাড়ি জমান আকাশ দিপ। ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের দ্বিতীয় বিভাগে ইউনাইটেড ক্লাবের হয়ে খেলেই নজর কাড়েন নির্বাচকদের। এরপরই জায়গা মেলে বাংলার অনূর্ধ্ব–২৩ ও রঞ্জি ট্রফি স্কোয়াডে।সেই সময় সৌভাগ্যবশত মোহাম্মদ শামির সংস্পর্শে আসেন তিনি। শামির কাছ থেকে শিখেছেন বোলিং ও ফিটনেসের খুঁটিনাটি, নিজেকে গড়েছেন দারুণ এক সুইং বোলার হিসেবে। ঘরোয়া ক্রিকেট মাতিয়ে জায়গা করে নেন জাতীয় দলে।২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাঁচিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকে নেন ৩ উইকেট। এরপর থেকেই নিয়মিত মুখ স্কোয়াডে। সুইংয়ে বারবার বিপাকে ফেলেছেন ব্যাটারদের, কিন্তু ভাগ্যটা সঙ্গ দেয়নি। সাত টেস্টে উইকেট মাত্র ১৫টি—সেই হতাশা মুছে গেল এজবাস্টনের ঐতিহাসিক পারফরম্যান্সে। এজবাস্টনে ইতিহাস গড়া এমন পারফরম্যান্স বোনকে উৎসর্গ করে আকাশ বলেন, ‘বোন, এটা তোমার জন্য। যখনই আমি বল হাতে নিয়েছি, আমি তোমার কথা ভাবছিলাম, তোমার মুখ বারবার ভেসে উঠছিল। আমি স্রেফ তোমাকে খুশি উপহার দিতে চেয়েছি। আমরা সবাই তোমার সঙ্গে আছি।’তবে এসবের বিন্দু বিসর্গও জানতেন না আকাশের বোন আখান্ড জ্যোতি সিং। ভারতীয় গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘জানতাম না আকাশ এরকম কিছু বলেছে। প্রকাশ্যে এসব নিয়ে কথা বলতে আমরা সম্ভবত প্রস্তুত ছিলাম না। তবে সে যেভাবে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছে এবং আমাকে বলেছে, আমাকে উৎসর্গ করেছে… এটা অনেক বড় ব্যাপার।’আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
