রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নটি একটি প্রত্যন্ত চর এলাকা। নদী পারাপার ছাড়া এখানে যাতায়াত প্রায় অসম্ভব, ফলে এটি উপজেলা সদর থেকে বিচ্ছিন্ন। এই অঞ্চলের মানুষ জীবিকা নির্বাহের জন্য বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত; কেউ কৃষিকাজ করেন, কেউ নদীতে মাছ ধরেন, আবার কেউ ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করেন।চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে একটি খেয়াঘাট রয়েছে, যেখানে প্রতিদিন অনেক ড্রেজার মেশিন অবস্থান করে। এই খেয়াঘাটটি ইজারার মাধ্যমে বেচাকেনা হয়। সম্প্রতি, রুমি নামের একজন ব্যক্তি এই খেয়াঘাটটি কিনেছেন এবং বিলাল নামের একজন ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। উত্তোলিত বালু নৌকা বা ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যাওয়া হয়। তবে, এই বালু পরিবহনে বিভিন্ন স্থানে চাঁদা দিতে হয়; না দিলে বাধার সম্মুখীন হতে হয়।রবিবার (৬ জুলাই) দিবাগত রাত ৩টা ৩০ মিনিটের দিকে চকরাজাপুর ইউনিয়নের খেয়াঘাটে একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। হঠাৎ করে তিনটি নৌকা নিয়ে প্রায় ৩৫-৪০ জন সন্ত্রাসী ঘাটে এসে অপ্রত্যাশিতভাবে গুলি ছুঁড়তে থাকে। ড্রেজার মেশিনের ড্রাইভাররা ভয়ে নদীর ঘাট থেকে উপরে উঠে আত্মরক্ষার চেষ্টা করেন বলে জানান ড্রেজার মেশিনের ড্রাইভাররা।এ সময় দুটি স্পিডবোট নদীর মাঝখানে নিয়ে গিয়ে ভাঙচুর করে এবং একটি স্পিডবোটের ইঞ্জিন খুলে নিয়ে চলে যায় বলে অভিযোগ করেন স্পিডবোটের ড্রাইভার সালাম বিশ্বাস।মাছ শিকারি ওয়াজেদ সিকদার বলেন, তিনি খুব ভোরে মাছ ধরার জন্য খেয়াঘাটে আসেন এবং পরে সবার মুখে গুলির শব্দের কথা শুনে অবাক হন।স্থানীয় গ্রাম পুলিশ জানান, রাত সাড়ে তিনটার দিকে তিনি গুলির শব্দ শুনে ঘরের টিন উঁচু করে দেখেন, তিনটি নৌকায় প্রায় ৪০ জন লোক এদিক-ওদিক ছুটাছুটি করে গুলি ছুঁড়ছেন। ড্রেজার মেশিনের ড্রাইভাররা তার বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরে জানা যায়, দুটি স্পিডবোট ভাঙচুর করা হয়েছে এবং একটি ইঞ্জিন নিয়ে চলে গেছে।রাজশাহী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শামীম সরকার বলেন, কিছুদিন আগে লালপুর ঈশ্বরদীর দিকে যৌথভাবে ‘খাল এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান খাজনা আদায় করেছে, যা বৈধ কিনা তার কোনো প্রমাণ নেই। এছাড়া, এখানকার বালুবাহী ট্রলার বা ড্রেজার থেকে তারা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দেওয়ায় হয়তো এমন ঘটনা ঘটেছে।নৌপুলিশের চারঘাট ফাঁড়ির ইনচার্জ হুমায়ুন রশীদ জানান, এপারে বৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে এবং উত্তোলিত বালু ঈশ্বরদীর দিকে নিয়ে বিক্রি করা হয়। মূলত, সেই বালু ঈশ্বরদীতে বিক্রি করতে দেওয়া হবে না, এ নিয়ে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানা এলাকার লোকজনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এ বিষয়ে রাতে কে বা কারা গুলি করেছে তা তারা চেনেন না বা দেখেনি।বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ আফম আছাদুজ্জামান জানান, নৌপুলিশসহ থানা পুলিশের পক্ষ থেকে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।এআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
