একে একে করেছেন তিনটি বিয়ে। এরপরে চতুর্থ বিয়ের খায়েশ জাগলে সেটিকেও সম্ভব করতে পিলে চমকানোর জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার শাহজাহান (৫৭) নামের এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে৷ তৃতীয় স্ত্রীকে মৃত দেখিয়ে ইউপি সদস্যের কাছ থেকে সনদ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। সেই সনদ দিয়ে ভোটার তালিকায় স্ত্রীকে মৃত দেখানো হয়। তবে শেষমেশ তার সকল জারিজুরি ফাঁস হয়েছে তৃতীয় স্ত্রীর কাছে। বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) বিকালে তৃতীয় স্ত্রী সীমা আক্তার (৩৮) তার স্বামী, ফতুল্লার কুতুবপুরের ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হান্নানুর রফিক রঞ্জু এবং সনদের তথ্য সংগ্রহকারী শারমিন আক্তারের বিরুদ্ধে ফতুল্লা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ফতুল্লার শিয়াচর এলাকার মৃত. ইউনুস ঢালীর ছেলে শাহজাহানের সাথে ৯ বছর পূর্বে সীমা আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের সংসারে ৩টি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করে। তাকে বিয়ের আগে শাহজাহান আরো দুটি বিয়ে করেছেন। পর্যায়ক্রমে নানা কৌশলে ওই দুই স্ত্রীর সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ করেন শাহজাহান। পরে পূর্বের বিয়ে গোপন রেখে সীমাকে বিয়ে করেন। এখন সীমাকে মৃত দেখিয়ে চতুর্থ বিয়ে করতে কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য সংগ্রহকারী শারমিন আকতারের মাধ্যমে ৯নং ইউপি সদস্য হান্নানুর রফিক রঞ্জুর কাছ থেকে মৃত সনদ গ্রহণ করেন শাহজাহান। সেই সনদ উপজেলা নির্বাচন অফিসে দাখিল করে ভোটার তালিকায় সীমা আক্তারকে মৃত দেখায়। বিষয়টি সীমা জানতে পেরে নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করে মৃত্যু সনদ সংগ্রহ করে থানায় অভিযোগ করেন।এ বিষয়ে কুতু্বপুর ইউপি সদস্য হান্নানুর রফিক রঞ্জু বলেন, ভোটার হালনাগাদের জন্য তথ্য সংগ্রহকারী শারমিন প্রতিদিনই শতশত লোকের আবেদনে সই স্বাক্ষর নিতেন। তিনি প্রতিটি আবেদন যাচাই বাছাই করে আমার কাছে নিয়ে আসতেন। তাকে বিশ্বাস করে সই স্বাক্ষর করে দিতাম। আমার বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে শাহজাহানের আবেদনে সীমাকে মৃত দেখিয়ে সই স্বাক্ষর নিয়েছেন শারমিন। বিষয়টি নির্বাচন কমিশন অফিসে আলোচনা করে সমাধান করবো।ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, সীমা আক্তারের একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটির তদন্ত চলছে। তদন্তের পর মামলা নেয়া হবে।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
