নদীর টাটকা মাছ। নদীর পাশে মনোরম পরিবেশে বসেই খাওয়ার সুযোগ। খাবারের স্বাদ আর পরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই পরিচিতি পেয়েছে যমুনা পাড়ের যমুনা হোটেল। সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার এই হোটেলটি উপজেলায় সবচেয়ে জনপ্রিয়। খেয়াঘাটের যাত্রীদের পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পর্যটক, উপজেলার সরকারি-বেসরকারি অফিসের চাকরিজীবী, রাজনৈতিক নেতা সবাই এই দোকানে খেতে আসেন।হোটেলের পাশে খেয়া ঘাট। সেখান থেকে ছাড়ে সি-ট্রাক। সি-ট্রাকের যাত্রীরা খাওয়া-দাওয়া করেন এখানে। এ ছাড়া হোটেলের পাশ দিয়ে নৌকায় চলাচলকারী যাত্রীদের বেশির ভাগই খাবার খেতে থামেন এই দোকানে।হোটেলের স্বত্বাধিকারী স্বপন ব্যাপারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এখানে প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার দেড় শ থেকে আড়াই শ মানুষ দুপুরের খাবার খান। খাবারের মেনুর মধ্যে রয়েছে বোয়াল, আইড়, চিংড়ি, ট্যাংরা, বাগাড়, ইলিশ ও ছোট মাছ। এ ছাড়াও গরু, খাসি, মুরগির মাংসও পাওয়া যায় এই দোকানে। পাওয়া যায় আলু ও টাকি মাছ ভর্তা। আর ভাতের সঙ্গে বিনা মূল্যে দেওয়া হয় শাক ভাজি, মাষকলাই ও মসুর ডাল।স্বপন ব্যাপারী ২০২৪ সালে প্রথমে বাবলাতলা মাছের আড়ৎ দিয়েছিলেন। তারপর ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে টিনের ছাউনি দিয়ে বেড়াহীন ছাপরা ঘরে শুরু করেন ভাত বিক্রি। তখন ছোট মাছ, ভাজি এবং গরুর মাংস বিক্রি হতো।এখন যমুনা হোটেলে কাজ করেন সাতজন কর্মচারী। এর মধ্যে রাঁধুনি দুইজন, একজন ক্যাশিয়ার এবং দুজন ওয়েটার। বিভিন্ন ধরনের ট্রেনিং, সভা ও সেমিনারেও দোকানটি থেকে খাবার পার্সেল করা হয়।চৌহালী উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসার গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘যমুনা হোটেলটির খাবারের মান, স্বাদ ও পরিবেশ অন্য সব হোটেলের চেয়ে আলাদা। তাই অফিসের দিনগুলোতে দুপুরের খাবার আমরা যমুনা হোটেলেই খাই।’স্থানীয় সাংবাদিক মাহমুদুল হাসান ও রফিক মোল্যা বলেন, ‘খবর সংগ্রহের জন্য চৌহালী গেলে আমিসহ বেশির ভাগ সাংবাদিকই যমুনা হোটেলে দুপুরের খাবার খাই।’স্বপন ব্যাপারী বলেন, ‘কাস্টমারদের ভালো সেবাদানই আমার প্রথম লক্ষ্য। যত দিন আল্লাহ আমার শক্তি-সামর্থ্য দিয়েছেন, তত দিন আমি মানুষকে ভালো মানের সেবা দিতে চাই।’স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ বলেন, ‘খাবারের মান ভালো হওয়ায় অল্প দিনেই যমুনা হোটেলটি জনপ্রিয় হয়েছে। যমুনা পাড়ে এ রকম একটি হোটেল সত্যি প্রশংসার দাবিদার।’এসকে/এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
