কৃষি প্রধান উত্তরের জেলা নওগাঁয় আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এ বছর মরিচের আবাদ ভাল হয়েছে। ফলে হাট-বাজারে কাঁচা মরিচের সরবরাহ বেড়েছে। তবে দাম নিম্নমুখী হওয়ায় উৎপাদন খরচই উঠছে না কৃষকদের। এতে লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের। নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলায় এ বছর ৯৬৫ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে। যা থেকে শুকনা মরিচের উৎপাদন হবে ৯ হাজার ৬০০ টন।সদর উপজেলার কীর্ত্তিপুর হাটে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ভোর থেকেই কৃষকেরা হাটে মরিচ নিয়ে আসছেন। পাইকার ও কৃষকদের দরদাম শেষে বিভিন্ন প্রকার মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১২ থেকে ১৫ টাকা কেজিতে। অথচ উৎপাদন খরচ অনেক বেশি হওয়ায় লাভ তো দূরের কথা, পুঁজি তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন চাষিরা।জেলার বদলগাছী উপজেলার ভগবানপুর গ্রামের কৃষক মতিউর রহমান বাবুল জানান, ৮ কাঠা জমিতে মরিচ চাষে তাঁর খরচ হয়েছে ৭ হাজার টাকা। বিক্রি করতে পেরেছেন মাত্র দেড় হাজার টাকার মরিচ। ক্ষেত থেকে মরিচ তুলতে ১০ টাকা কেজি মজুরি দিতে হচ্ছে, হাটে বিক্রি হচ্ছে ১০-১২ টাকায়—তাতে লোকসান ছাড়া কিছুই নেই।স্থানীয় আরও কয়েকজন কৃষক জানান, শ্রমিকের মজুরি, কীটনাশক, সার, ক্ষেত পরিচর্যা মিলিয়ে প্রতিকেজি মরিচ উৎপাদনে খরচ পড়ছে ৩০ টাকার মতো। অথচ সেই মরিচ বিক্রি করতে হচ্ছে ১০-১৫ টাকায়। দাম না বাড়লে চাষে আগ্রহ হারাবেন বলেও জানান তারা।বদলগাছীর পারসোমবাড়ী গ্রামের কৃষক শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘৩ বিঘা জমিতে মরিচের আবাদ করেছি। প্রতি বিঘাতে খরচ পড়েছে ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু মৌসুমের শুরু থেকেই দাম এতটা কম যে লাভ তো দূরের কথা, মূলধনও উঠে আসবে না।’নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘গত বছর খরা ও অনাবৃষ্টিতে ফলন কম হওয়ায় বাজারে দাম বেশি ছিল। এবার আবহাওয়া ভালো থাকায় উৎপাদন বেড়েছে, সরবরাহ বেশি হওয়ায় দাম কমেছে।’তিনি আরও বলেন, ‘কৃষকদের আমরা নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি, তারা যেন মরিচক্ষেত ছত্রাকমুক্ত ও সুস্থ রাখতে পারেন। আশা করছি, সামনে দাম কিছুটা বাড়বে এবং কৃষকেরা লাভবান হবেন।’আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
