আজকের দ্রুতগতির পৃথিবীতে শিশুরা ক্রমাগত শিখছে, তথ্য শোষণ করছে এবং এমন কার্যকলাপে লিপ্ত হচ্ছে যার জন্য তীক্ষ্ণ মনোযোগ এবং শক্তিশালী স্মৃতিশক্তি প্রয়োজন। আর এই সমস্ত কার্যকলাপের জন্য স্বাস্থ্যকর পুষ্টির কোনো বিকল্প নেই। গর্ভকালীন সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করে শিশুর ও মায়ের সুস্বাস্থ্য। এ সময় পুষ্টির ওপর নির্ভর করে বাচ্চার বৃদ্ধি, শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নয়ন ও মায়ের সুস্থতা।স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিকারী খাবারের তালিকায় বাদামের নাম রয়েছে শুরুর দিকেই। দীর্ঘদিন ধরে মস্তিষ্কের শক্তি বৃদ্ধির জন্য বাদামের ওপর নির্ভর করে আসছে স্বাস্থ্য সচেতনরা। ভিটামিন ই, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ বাদাম স্মৃতিশক্তি, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা এবং মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য উন্নত করে। এতে রাইবোফ্লাভিন এবং এল-কার্নিটিনও রয়েছে, যা মস্তিষ্কের কোষের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে এবং নিউরোডিজেনারেটিভ ব্যাধির ঝুঁকি কমায়।বাদাম খেতে পছন্দ করেন যারা, তাদের কাছে পরিচিত নাম হলো আখরোট। তবে ফ্যাট আছে মনে করে অনেকে এই বাদাম এড়িয়ে চলেন। আসলে কিন্তু তা নয়। এতে থাকা ফাইবার, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, প্রোটিন ও ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড নানাভাবে শরীরের উপকার করে থাকে।বাদাম আকৃতিতে ছোট হলেও এর রয়েছে বিস্তর পুষ্টিগুণ। এটি কেবল ক্ষুধাই নিবারণ করে না, বরং শরীরের জন্য বয়ে আনে অনেক উপকারও। একেক ধরনের বাদাম একেকভাবে উপকারিতা দেয়। ত্বকের উন্নতি থেকে শুরু করে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ পর্যন্ত- প্রাকৃতিক প্রতিকারের জন্য নির্দিষ্ট বাদাম খেতে পারেন। আখরোট খেলে তা ক্যান্সার, হৃদরোগ সারানোর পাশাপাশি সাহায্য করে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ঠিক রাখতেও। কালো কিংবা বাদামি- দুই ধরনের আখরোটই স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।জেনে নিন নিয়মিত আখরোট খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে:হৃদযন্ত্র ভালো রাখে: সুস্থ থাকার জন্য হৃদযন্ত্র বা হার্ট ভালো রাখার বিকল্প নেই। আর আপনাকে এই কাজে সাহায্য করতে পারে আখরোট। এতে থাকা ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেমের জন্য উপকারী। আপনি যদি প্রতিদিন কয়েকটি করে আখরোট খান তবে তা রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করবে। এটি আমাদের শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল হ্রাস করে এবং ভালো কোলেস্টেরলের বাড়াতে সাহায্য করে। তাই হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে নিয়মিত আখরোট খান।মস্তিষ্কের বিকাশে সাহায্য করে: মস্তিষ্কের জন্য আখরোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাবার সম্ভবত আর নেই। আখরোট দেখতে ছোট মস্তিষ্কের মতো। ডিএইচএ (এক ধরণের ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড) সমৃদ্ধ এই বাদাম জ্ঞানীয় কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং চাপ কমাতে দুর্দান্ত। এতে পলিফেনলও রয়েছে, যা মস্তিষ্কের কোষের মধ্যে যোগাযোগ উন্নত করতে, শেখার ক্ষমতা বাড়াতে এবং মস্তিষ্কের অবক্ষয় রোধ করতে সহায়তা করে। এতে থাকা ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড এই কাজে ভূমিকা রাখে। তাই মস্তিষ্কের বিকাশে নিয়মিত আখরোট খেতে পারেন। ৪-৫টি বাদাম রাতে ভিজিয়ে রাখুন, সকালে খোসা ছাড়িয়ে নিন এবং শিশুকে খালি পেটে খেতে দিন। চাইলে এক গ্লাস দুধে মিহি করে কাটা বাদাম যোগ করেও দিতে পারেন।ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়: মরণঘাতি রোগ ক্যান্সার থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করে আখরোট। এতে থাকা ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, পলিফেনলস এবং ইউরোলিথিন অ্যান্টি-ক্যান্সার বৈশিষ্ট্য সমৃদ্ধ। তাই স্তন, কোলন এবং প্রোস্টেট রোধে বড় ভূমিকা রাখে আখরোট। আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর ক্যান্সার রিসার্চ জানিয়েছে আখরোট খেলে তা ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।হাড় শক্ত করে: হাড়ের দুর্বলতা দেখা দিলে সতর্ক হোন। কারণ সেখান থেকে দেখা দিতে পারে আরও অনেক সমস্যা। হাড় ভালো রাখতে নিয়মিত আখরোট খান। এতে আছে আলফা-লিনোলেনিক অ্যাসিড নামে একটি প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিড। এই অ্যাসিড হাড়কে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। সেইসঙ্গে আখরোটে থাকা ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডও হাড় ভালো রাখে।গর্ভাবস্থায় উপকারী: গর্ভবতী নারীর জন্য প্রতিদিন আখরোট খাওয়া উপকারী। আখরোটে আছে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স যেমন ফোলেট, রাইবোফ্লাভিন এবং থিয়ামিন। এগুলো হবু মায়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। আখরোটে থাকা ফলিক এসিড গর্ভবতী ও অনাগত সন্তানের জন্য উপকারী।রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী না হলে যেকোনো অসুখের বিরুদ্ধে লড়াই করা কঠিন হয়ে যায়। করোনা মহামারির এই সময়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর প্রতি আমরা একটু হলেও মনোযোগী হয়েছি। এই কাজে আপনাকে সাহায্য করতে পারে আখরোট। এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ইমিউন সিস্টেমকে ঠিক রাখে। আখরোটে আছে ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ যেমন তামা এবং ভিটামিন বি সিক্স যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কাজ করে।ভালো ঘুমের জন্য: অনিদ্রার সমস্যা থাকলে আখরোট রাখুন খাবারের তালিকায়। এতে থাকা মেলাটোনিন ভালো ঘুমের জন্য সহায়ক। আখরোটে উপস্থিত ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড রক্তচাপকে কম রাখে এবং স্ট্রেস উপশম করে।তবে শুধু উপকারী নয়, আখরোটের রয়েছে কিছু অপকারিতাও। যেকোনো খাবারই প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক নয়। কারণ তাতে শরীরে পুষ্টি উপাদানগুলোর সামঞ্জস্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই অন্যান্য খাবারের মতোই আখরোটও প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাওয়া যাবে না। আপনি যদি আখরোট বেশি খেয়ে ফেলেন তবে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন: * অ্যালার্জি হতে পারে। * লিভারের সমস্যা দেখা দিতে পারে। * কালো আখরোটে থাকা ফাইটেটস শরীরের আয়রন শুষে নিতে পারে। ফলে শরীরে আয়রনের ঘাটতি দেখা যেতে পারে।এসকে/এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
