কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের জামালপুর টেকনিক্যাল উচ্চ বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার ভবন নির্মাণে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, কাজ সম্পূর্ণ না করেই বিদ্যালয় থেকে বিল ভাউচারে আগাম স্বাক্ষর ও ছারপত্র দিয়ে দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। এতে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।জানা যায়, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে ১ কোটি ২৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ে জামালপুর টেকনিক্যাল উচ্চ বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার কাজ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সৈকত এন্টারপ্রাইজ ২০২৪ সালে ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু করে। বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের (এডহক কমিটি) সভাপতি রিয়াদ হোসাইন ও সদস্য শাহআলম মিয়া বলেন, ঠিকাদার ও প্রকৌশলী রেজাউল হোসেন নির্মাণকাজ শেষ না করেই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আঃ হাকিমের কাছ থেকে বিল ভাউচারে স্বাক্ষর নিয়ে নিয়েছেন। এটি একটি বড় ধরণের অনিয়ম এবং এতে প্রধান শিক্ষকের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে আমরা মনে করি।এছাড়া নির্মাণে নিম্নমানের বালি, রড, সিমেন্ট এবং সেগুন কাঠের পরিবর্তে মেহগনি কাঠ ও নিম্নমানের থাই গ্লাস ব্যবহার করা হয়েছে। ভবনটির টেকসইতা নিয়ে এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ভূমিকম্প বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। এর আগেও প্রধান শিক্ষক মো. আঃ হাকিমের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তাই তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এবং অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান স্থানীয়রা।ভৈরব জামালপুর টেকনিক্যাল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সদস্য সচিব মো. আ. হাকিম বলেন, ‘আমি কনস্ট্রাকশনের কাজ বুঝি না। প্রকৌশলী রেজাউল হোসেন আমাকে অনুরোধ করেছেন। তাই তার অনুরোধে বিল ভাউচারে স্বাক্ষর করেছি।’ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সৈকত এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক সাইদুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘নির্মাণকাজে কোনো ধরনের নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়নি। তবে ভুলবশত সেগুন কাঠের পাল্লার বদলে মেহগনি কাঠ দেওয়া হয়েছিল। সেটা পরিবর্তন করে সেগুন কাঠ ব্যবহার করা হবে।’ভৈরব উপজেলা শিক্ষা প্রকৌশলী রেজাউল হোসেন বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে বিল ভাউচারে স্বাক্ষর নেওয়া হলেও এখনো চেক প্রদান করা হয়নি। কাজ সম্পন্ন করে বুঝিয়ে দেওয়ার পর চেক প্রদান করা হবে। এছাড়া সিডিউল অনুযায়ী মানসম্মত কাজ হচ্ছে।’এআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
