রাজধানী ঢাকার সড়কে প্রায়ই চোখে পড়ে লক্কর-ঝক্কর বাস। মাঝেমধ্যেই নানা দুর্ঘটনার জন্ম দিয়ে আলোচনায় আসা এই বাসগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব আসলে কার, সে প্রশ্নই এখন উঠছে জোরেশোরে। চলছে পরিবহন নৈরাজ্য। নিয়মবিধির তোয়াক্কা নেই। সর্বত্র চলছে লক্কর-ঝক্কর বাস। মেয়াদোত্তীর্ণ বাস রাস্তায় নামানোর অনুমতি না থাকলেও বাস মালিকরা তা বিবেচনা করছেন না। সরকারিভাবে নজরদারির অভাবে মহানগরজুড়ে এসব বাসের দাপুটে চলাচল থামছেই না। রাজধানীর উত্তরা থেকে ছবি তুলেছেন কন্ট্রিবিউটিং রিপোর্টার এলেন বিশ্বাস।মূলত সরকারের দুটি প্রতিষ্ঠান ঢাকার সড়কে যানবাহন চলাচলের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। একটি হলো বিআরটিএ আর অন্যটি হল পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ।এর মধ্যে বিআরটিএ ফিটনেস সনদ ও রুট পারমিট দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করে থাকে। একটি বাসের বত্রিশটি বিষয় পর্যবেক্ষণের পর তাদের ফিটনেস সনদ দেওয়ার কথা থাকলেও ভাঙাচোরা বাসগুলো কীভাবে এই সার্টিফিকেট পায়, তা নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে বহু বছর ধরেই।নিয়মিত যাত্রী শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিদিন এই রুটে যাতায়াত করি। কিন্তু বাসের অবস্থা এতটাই খারাপ—ভাঙা কাচ, নষ্ট ব্রেক—সবসময় আতঙ্কে থাকতে হয়।’আরেক যাত্রী বলেন, ‘আমরা পূর্ণ ভাড়া দিই, কিন্তু সেবার বালাই নেই। সরকার যদি নজর দিত, তাহলে এত দুর্ভোগ হতো না। ভালো মানের বাস খুব প্রয়োজন আমাদের।’আবার রাস্তায় নামার পর ট্রাফিক বিভাগের সংশ্লিষ্টদের ভাঙাচোরা বা ফিটনেসহীন বাস জব্দ করার কথা থাকলেও সেটি খুব একটা দেখা যায় না। বরং ট্রাফিক পুলিশের সামনে দিয়েই লক্কর-ঝক্কর বাসগুলো রাস্তা আটকে যাত্রী তুলছে, এমন চিত্রও প্রতিনিয়ত দেখা যায়।ট্রাফিক বিভাগ বলছে, অনুপযোগী বা আনফিট যানবাহন রাস্তায় দেখলেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছে তারা। কিন্তু তারপরেও এগুলো রাস্তায় কীভাবে, সেটি তাদেরও জানা নেই।যদিও অভিযোগ আছে, মোটরসাইকেল বা প্রাইভেট কার ধরার বিষয়ে পুলিশের মধ্যে যতটা উৎসাহ কাজ করে, ভাঙাচোরা বাসের বিষয়ে তা দেখা যায় না।কিন্তু আনফিট বা লক্কর-ঝক্কর যানবাহন ফিটনেস সনদ পায় কীভাবে, সে প্রশ্নের কোনো সদুত্তর তার কাছে পাওয়া যায়নি।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
