মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজিপুর, মটমুড়া, তেতুলবেড়িয়া ও বামন্দী ইউনিয়নের পশু পালনকারী ও খামারীদের কষ্ট লাঘবের জন্য নির্মিত হয়েছিল বামন্দী পশু হাসপাতাল। তবে নির্মানের ৩১ বছর পেরিয়ে গেলেও কোনো কাজে আসেনি পশু হাসপাতালটি। নানাবিধ কারণে স্থাপনের পরপরই বন্ধ হয়ে যায় পশু হাসপাতালের সব কার্যক্রম। স্থানীয়রা জানান, তিন দশকের বেশি সময় ধরে এই পশু হাসপাতালটি অবহেলা আর অযত্নে পড়ে রয়েছে। গরু, ছাগল, ভেড়া, মহিষ অসুস্থ হলে গ্রামের অদক্ষ পশু চিকিৎসক দিয়েই চিকিৎসা করাতে হয়। এতে একদিকে বেড়ে যায় খরচ অন্যদিকে আবার সঠিক চিকিৎসা পাওয়া যায়না। উপায় না পেয়ে অনেককেই আবার পশুর চিকিৎসা দেওয়ার জন্য যেতে হয় উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে।এলাকাবাসীরা বলছেন, এই পশু হাসপাতালটি পুনরায় চালু করা গেলে স্থানীয় পশু পালনকারী ও খামারিদের অনেক কষ্ট লাঘব হবে। জানা যায়, স্থানীয় কিছু লোক টাকা-পয়সা তুলে পশু হাসপাতালের এই জমি ক্রয় করেছিলাে। পরে উপজেলা পরিষদের টাকা দিয়ে ঘর নির্মাণ করা হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দা আবু সাঈদ বিশ্বাস বলেন, ‘দীর্ঘ দিন ধরে পড়ে থাকার কারণে পশু হাসপাতালটি একেবারেই নষ্ট হয়ে গেছে। শুধু দাঁড়িয়ে আছে ঘরটি। হারিয়ে গেছে পশু চিকিৎসার সরঞ্জাম ও দরজা-জানালা। মানুষ এখন খড়ির ঘর হিসেবে ব্যবহার করছে। তবে দ্রুত এ ঘরটি সংস্কার করে নতুনভাবে চালু করা হবে এটিই আমাদের প্রত্যাশা।’নজরুল ইসলাম নামের আরেক ব্যক্তি বলেন, ‘বর্তমানে পশু হাসপাতালটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। পশু পালনকারীদের বাইরে চিকিৎসা দিতে গিয়ে বাড়তি ব্যয় হয়। যদি সরকারি পশু হাসপাতালটি চালু থাকত, তাহলে অনেক খরচ কমে যেত। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস কোনো খোঁজখবর রাখে না বলেই হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে।’বামন্দী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল আওয়াল বলেন, ‘হাসপাতালটি দীর্ঘদিন পড়ে থাকার কারণে একেবারে পরিত্যক্ত হয়ে গেছে। তাই আমাদের দাবি পশু হাসপাতালটি চালু করা হোক।’গাংনী উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের সাবেক উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. ইউসুফ আলী বলেন, ‘পশু হাসপাতালটি নির্মাণের পর আমি অল্প কিছু দিন সেখানে কর্মরত ছিলাম। প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে তেমন কোনো সহযোগিতা পাচ্ছিলাম না। আর পিয়ন ও নাইটগার্ড কোনো কিছুই ছিল না। আশপাশে কোনো বাড়িও ছিল না সে সময়।’উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. মোতালেব আলী বলেন, ‘উপকেন্দ্র পশু হাসপাতালটি ১৯৯০ অথবা ১৯৯১ সালের দিকে নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘ ৩১ বছর পড়ে থাকায় নানা সমস্যায় জর্জরিত উপজেলার প্রাণিসম্পদ অফিসের উপ-কেন্দ্রটি। এটি বামন্দী ইউনিয়নে অবস্থিত। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় এটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। পশু হাসপাতালটি নিয়ে এরই মধ্যে আমরা কাজ শুরু করে দিয়েছি। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।’আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
