ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই কানি জানিয়েছেন, পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে ওমানের মধ্যস্থতায় খুব শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রকে একটি নতুন প্রস্তাব দেবে তেহরান। এই প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করেছেন যেন তারা এ সুযোগ হাতছাড়া না করে।সোমবার (৯ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান পরোক্ষ আলোচনা ইতিমধ্যে পাঁচ দফা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সামনে আরও একটি দফা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার মূল লক্ষ্য একটি নতুন বোঝাপড়ায় পৌঁছানো।ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণকে দুই পক্ষের মধ্যে প্রধান মতপার্থক্যের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এমন নয় যে, যেসব দেশ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে তারা সবাই সামরিক উদ্দেশ্যে করছে। অনেক দেশ— এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররাও— এটি করছে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে।’তিনি আরও বলেন, ‘যদি প্রতিরোধ বলতে বোঝানো হয় বাইরের চাপের মুখে ইরানের অবস্থান বজায় রাখা, তাহলে আমরা বলব— ইরান এখন এমন এক জায়গায় রয়েছে, যেখানে আন্তর্জাতিক ও আইনি সীমা অতিক্রম করা চাপ মোকাবেলা করার সামর্থ্য রয়েছে।’ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ তাদের পারমাণবিক খাতের কৌশলগত প্রয়োজন এবং এটি জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত। এই প্রযুক্তি ইরানি বিজ্ঞানীদের বহু বছরের পরিশ্রমের ফল বলে উল্লেখ করেন বাঘাই কানি এবং বলেন, ‘এটি কোনো আলোচনার বিষয় নয়।’ষষ্ঠ দফার আলোচনার বিষয়ে এখনই বিস্তারিত কিছু না জানালেও তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত হলে তা প্রকাশ করা হবে।বাঘাই আরও বলেন, ‘যে কোনো প্রস্তাব, যা ইরানের জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হবে, তা আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। খুব দ্রুতই আমরা ওমানের মাধ্যমে আমাদের প্রস্তাব তুলে ধরব।’যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘এই সুযোগ যেন তারা হাতছাড়া না করে। নিজেদের স্বার্থেই তাদের উচিত হবে প্রস্তাবটি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা।’সূত্র: রয়টার্স আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
