পিতা-পুত্র কিংবা পিতা-কন্যার বয়স নিয়ে অঙ্কের ধাঁধা অনেক সময় পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে দেখা যায়। তবে এবার সেই ধাঁধা বাস্তব রূপে দেখা দিয়েছে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায়। একটি জন্ম নিবন্ধনে দেখা গেছে, বাবার জন্মের আড়াই বছর পর তার মেয়ের জন্ম!জন্ম নিবন্ধনের জাতীয় ওয়েবসাইট (যঃঃঢ়ং://নফৎরং.মড়া.নফ) ঘেঁটে এমন একটি তথ্য উঠে এসেছে যেখানে একজন পিতার জন্মসাল দেওয়া হয়েছে ০৭/০৩/১৯৮২ ইং, আর তার মেয়ের জন্মসাল ০২/০৩/ ১৯৮৫ ইং। বিষয়টি প্রথমে অস্বাভাবিক মনে হলেও সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে যাচাই করে এমন তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর সংশোধনের মাধ্যমে এই তথ্য ওয়েবসাইটে যুক্ত করা হয়েছে। তবে জন্মসাল ঠিক করার পরও যুক্তিসঙ্গত পারিবারিক বয়সের সামঞ্জস্য রক্ষা হয়নি।স্থানীয় সূত্র জানা যায়, আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কার্যালয়ে তারিকুল ইসলাম হলুদ (অফিসের মালি) টাকার বিনিময়ে এসব জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করে দেন। অভিযোগ রয়েছে, জন্মতারিখ পরিবর্তন কিংবা সংশোধনের জন্য সেখানে হাজার থেকে লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়। ফলে, বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এমন অনেক তথ্যই সরকারি ডাটাবেইসে যুক্ত হচ্ছে যা ভবিষ্যতে নাগরিক ও রাষ্ট্রীয় সেবায় বড় ধরণের জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে।একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানান, “অনেক সময় সরকারি চাকরি কিংবা বিদেশ গমনের উদ্দেশ্যে বয়স কমানো বা বাড়ানোর প্রয়োজন পড়ে। আর এই সুযোগ অফিসের ইউএনও অফিসের মাধ্যমে জন্ম নিবন্ধনের তথ্য পাল্টে দেওয়া হয়।”অভিযুক্ত তারিকুল ইসলাম হলুদ (অফিসের মালি) বলেন টাকা নেয়ার বিষয় আমি কিছু জানিান। আমার কাজ কেউ জন্ম নিবন্ধনের সংশোধনের কাগজ নিয়ে আসলে তা জমা রেখে স্যারের কাছে পৌঁছে দেয়া।এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারিহা তানজিন (ইউএনও) জানান পিতার জন্মের আড়াই বছর পর মেয়ের জন্য এভাবে হওয়ার সুযোগ নেই। আমাকে একটু তথ্যেটা দিন যাচাইকরে দেখি। তবে সত্যতা পেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারি ডেটাবেইসে তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের অভাবেই এমন জালিয়াতি বেড়ে যাচ্ছে। এ ধরনের ঘটনায় শুধু প্রশাসনিক দুর্বলতা নয়, নাগরিক তথ্য ব্যবস্থাপনায় গভীর সমস্যা স্পষ্ট হচ্ছে।নাগরিক সমাজ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে, দ্রুত এই অনিয়মের তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং জাতীয় তথ্যভান্ডারে নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করা হোক।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
